• বিজেপি সমর্থক মহিলাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মার! কাঠগড়ায় ফিরদৌসি অনুগামীরা, নরেন্দ্রপুরে গ্রেপ্তার ১
    প্রতিদিন | ১২ জুলাই ২০২৬
  • বর্বরতা, নির্মম অত্যাচারের সাক্ষী নরেন্দ্রপুর। বিজেপি সমর্থক মহিলাকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। এমনকী তাঁর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। অত্যাচারের সীমা এতদূর পর্যন্ত যায় যে, ব্লেড বের করে তাঁর জিভ কেটে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এমনই নৃশংস অত্যাচারের শিকার হন রাজপুর-নরেন্দ্রপুর পুরসভার পশ্চিম নিশ্চিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা এক মহিলা। জানা গিয়েছে, তিনি ও তাঁর স্বামী দু’জনেই বিজেপি সমর্থক। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। সকলেই সোনারপুর উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ফিরদৌসি বেগমের অনুমগামী বলেই অভিযোগ তোলে ওই পরিবার।

    বিজেপি সমর্থক দম্পতি বলছেন, অত্যাচারের সূত্রপাত গত বছরের মে মাস থেকে। তাও একটি জমিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, তাঁদের জমি দখলের চেষ্টা করেন ফিরদৌসি বেগমের অনুগামীরা। তাঁদের কাছে ৭৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ। তোলা দিতে রাজি না হওয়াই কাল হয় দম্পত্তির। অভিযোগ, তারপর থেকেই শুরু হয় অত্যাচার। দিনের পর দিন মারধর, প্রাণনাশের হুমকি লেগেই থাকত। এমনকী তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের অত্যাচারে বাড়ি ছাড়তে পর্যন্ত বাধ্য হন বিজেপি সমর্থক ওই পরিবার। তবে প্রশাসনিক তৎপরতায় কয়েকমাস আগে বাড়িতে ফিরলেও রেহাই হয়নি। অভিযোগ, দিনেদুপুরে তাঁদের বাড়ি বয়ে এসে খুনের হুমকি দেওয়া হত। গত শুক্রবার রীতিমতো মহিলার বাড়িতে ঢুকে শুরু হয় অত্যাচার। অভিযোগ, সেই সময় ওই মহিলার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর ছোট্ট মেয়ের সামনেই বেধড়ক মারধর কার হয় ওই মহিলাকে। অভিযোগ, মাকে মারছে দেখে মেয়ে কান্নাকাটি করলে তাকেও খুন্তি দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর ওই মহিলার গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয় মাঠে। সেখানেই একটি ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে চলে অত্যাচার। খুবলে খুবলে চেঁচে দেওয়া হয় চুল। এমনকী দুষ্কৃতীরা পকেট থেকে ব্লেড বের করে জিভ কেটে নেওয়ার চেষ্টাও করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওই মহিলা কোনওমতে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও ভয়ে সিঁটিয়ে পরিবার। নরেন্দ্রপুর থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    সূত্রের খবর, অভিযুক্তরা সকলেই নাকি সোনারপুর উত্তর প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ফিরদৌসি বেগমের অনুগামী। তৃণমূল জমানায় এলাকায় তাদের দাপট ছিল রমরমা। বিজেপি সমর্থক ওই মহিলার স্বামীর অভিযোগ, ‘এই অত্যাচার তো নতুন নয়। আমাদের বাড়িও ছাড়তে হয়েছে আগে। এখন সরকার বদলালেও এদের গুন্ডামি চলছেই। শুভেন্দু স্যারের কাছে অনুরোধ করছি আমাদের বাঁচান।’ নরেন্দ্রপুর কাণ্ডের অভিযোগের পরেই শনিবার রাতভর তল্লাশি চালায় পুলিশ। টালিগঞ্জ এলাকা থেকে তারিফ উদ্দিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত তারিফের নাম রয়েছে অভিযোগপত্রে। যদিও ঘটনার পর থেকেই এলাকা থেকে পালিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। তল্লাশি চালিয়ে টালিগঞ্জ থেকে পাকড়াও করে পুলিশ। এই ঘটনায় রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভোটের পর থেকে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। সমাজবিরোধীদের দাপট এখনও কমেনি। কড়া পদক্ষেপ করা উচিত পুলিশের। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।” যদিও যে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কে অনুগামীদের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)