• ভোটার কার্ড ঘিরে চাঞ্চল্য জামুড়িয়ায় ! একসঙ্গে মিলল ২৫–৩০টি নতুন ভোটার কার্ড
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ জুলাই ২০২৬
  • জামুরিয়া বিধানসভার ডোবরানা গ্রাম পঞ্চায়েতের লোয়ার কেন্দা কোলিয়ারি এলাকায় একসঙ্গে ২৫ থেকে ৩০টি নতুন ভোটার কার্ড উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। জানা গিয়েছে, প্রতিটি ভোটার কার্ডই সরকারি ডাক বিভাগের স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল।

    কিন্তু যাদের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল, তাদের কাছে না গিয়ে সব কার্ড একসঙ্গে একটি জায়গায় জমা অবস্থায় পড়ে ছিল। এই কার্ড গুলি ভোটের আগেই বিলি হাওয়ার  কথা,  কিন্তু স্পিড পোষ্টে সঠিক সময়ে এসেও কার্ড পাইনি তারা। কীভাবে এতগুলি ভোটার কার্ড একত্রিত হয়ে সেখানে এল? কে বা কারা এই কার্ডগুলি গ্রহণ করেছিল? কেন প্রকৃত প্রাপকদের হাতে তা তুলে দেওয়া হয়নি?—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাজুড়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার একটি ক্লাবের সদস্যরা ঘটনাক্রমে ওই ভোটার কার্ডগুলি দেখতে পান। পরে কার্ডগুলি নাম ঠিকানা দেখলে এলাকারই মানুষজনের নাম উঠে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভোটার কার্ডের অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁরা ক্লাবে এসে নিজেদের নামের কার্ড সংগ্রহ করে নিয়ে যান। বাকি কার্ডগুলি ক্লাবের সদস্যদের হেফাজতেই রাখা হয়।  শনিবার সকালে ক্লাবের পক্ষ থেকে অবশিষ্ট কার্ডধারীদের ডেকে এনে তাঁদের হাতে ভোটার কার্ড তুলে দেওয়া হয়। বহুদিনের অপেক্ষার পর ভোটার কার্ড হাতে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।

    তবে সেই সঙ্গে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, অনেক আগেই ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করা হলেও কার্ড না পাওয়ায় বারবার বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে অনলাইনে টাকা খরচ করে ই-ভোটার কার্ড ডাউনলোড করে প্রিন্ট করাতে হয়েছে। অথচ এখন জানা যাচ্ছে, তাঁদের আসল ভোটার কার্ড অনেকদিন আগেই এসে গিয়েছিল, কিন্তু কেউ বা কারা তা গ্রহণ করে তাঁদের হাতে না দিয়ে অন্যত্র রেখে দিয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাক বিভাগের ডেলিভারি ব্যবস্থা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)