মুখোমুখি মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ জুলাই ২০২৬
আসানসোলে ‘গদ্দার’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ তীব্র হয়েছে। শনিবার আসানসোলে এসে ২১ শে জুলাই শহীদ দিবস পালনের প্রস্তুতি বৈঠক করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলত্যাগীদের তীব্র কটাক্ষ করে কল্যান বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কিছু গদ্দার চলে গেছে। তাতে দলের কিছু যায় আসে না।” তাঁর দাবি, কয়েকজন নেতা দল ছেড়ে গেলেও আসানসোলে তৃণমূলের সংগঠন এখনও শক্তিশালী এবং কর্মীদের মনোবল অটুট রয়েছে।
তিনি বলেন, এদিনের বৈঠকে তো মলয় ঘটক, তাপস বন্দোপাধ্যা, দাসু, হরেরাম সিং সহ অনেকেই রয়েছে। ২০২৯ র ভোটে আসানসোল সাবডিভিশন থেকে বিজেপি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। কল্যান বন্দোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটকের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, তৃণমূল যখন অন্যদের ‘গদ্দার’ বলছে, তখন তাদের নিজেদের দল থেকেই বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা অন্য রাজনৈতিক দলে চলে গিয়েছেন।
বক্তব্যে তিনি মলয় ঘটকের ভাই অভিজিৎ ঘটক , নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সহ তৃণমূলের একাধিক নেতার নাম উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, তাহলে তাঁদেরও কি গদ্দার বলা হবে? সাংসদদের তো মলয় ঘটক বসেছিলেন। তাকে তিনি কি বলবেন?অগ্নিমিত্রা পালের আরও অভিযোগ, গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার মানুষের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
তাই অন্যদের বিশ্বাসঘাতক বলার আগে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীতের মূল্যায়ন করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।স্বাভাবিকভাবেই কালিঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূলের দড়ি টানাটানির মাঝে ‘গদ্দার’ মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক তরজায় প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটকের প্রসঙ্গ উঠে আসায় আসানসোলের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।