• তুমি ভুল যুগে জন্মগ্রহণ করেছো রোনাল্ডো, একসময়ের সতীর্থ দি মারিয়ার বোমা
    আজকাল | ১২ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় বিতর্ক হল, লিওনেল মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কে সর্বকালের সেরা? এই দুই কিংবদন্তির শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলপ্রেমীদের চর্চায়।

    আর্জেন্টাইন তারকা অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, যিনি রোনাল্ডোর সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদে চার বছর খেলেছেন, এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে রোনাল্ডো সবসময় নিজেকে সেরা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। তাঁর মধ্যে সবসময় সেরাদের একজন হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। তবে দি মারিয়ার মতে, রোনাল্ডো এমন এক যুগে খেলেছেন, যেটি ছিল মেসির যুগ, যেখানে মেসি নিজের অসাধারণ প্রতিভা ও পারফরম্যান্স দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে শাসন করেছেন।

    রোনাল্ডো এবং মেসি, দু'জনের পথ আলাদা হলেও দু'জনেই ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। রোনাল্ডোর অসাধারণ শারীরিক সক্ষমতা, গোল করার খিদে, কঠোর পরিশ্রম, মানসিক দৃঢ়তা এবং বিভিন্ন লিগে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষমতা তাঁর বড় শক্তির জায়গা।

    ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির মতো ভিন্ন পরিবেশে সাফল্য অর্জন করে তিনি দেখিয়েছেন যে তাঁর প্রতিভা শুধু একটি দলের বা একটি লিগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখনও তিনি সৌদি আরবে গোল করে চলেছেন। বিশ্বকাপে অবশ্য রোনাল্ডো নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। এবারের বিশ্বকাপই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ।

    অন্যদিকে, চলতি বিশ্বকাপে মেসি এখনও মায়াজাল বিছিয়ে চলেছেন। তাঁর অসাধারণ ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস, খেলার গতি বোঝার ক্ষমতা এবং দলের জন্য সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। মেসি শুধু গোল করেননি, তিনি পুরো ম্যাচের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ক্লাব পর্যায়ে বার্সেলোনার হয়ে অসংখ্য সাফল্যের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয় তাঁর কেরিয়ারকে পূর্ণতা দিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে তিনি কতদূর যাবেন, তা বলা সম্ভব নয়। তবে মেসিম্যানিয়ায় ভুগছে গোটা বিশ্ব।

    রোনাল্ডো ও মেসির প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসলে শুধু দু'জন খেলোয়াড়ের লড়াই ছিল না। এটি ছিল দুই ভিন্ন দর্শনের লড়াই। রোনাল্ডো দেখিয়েছেন পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও নিজের সীমাকে প্রতিনিয়ত অতিক্রম করার মানসিকতা কতটা শক্তিশালী হতে পারে। মেসি দেখিয়েছেন প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও ফুটবলের প্রতি সহজাত বোঝাপড়া কীভাবে একজন খেলোয়াড়কে কিংবদন্তিতে পরিণত করতে পারে।

    কে সেরা, এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই নির্ভর করে ব্যক্তিগত পছন্দের উপর। দুই কিংবদন্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলকে জনপ্রিয় করেনি, বরং কোটি কোটি মানুষকে এই খেলার সৌন্দর্য উপভোগ করার নতুন কারণ দিয়েছে। একজন প্রতিভার প্রতীক, অন্যজন পরিশ্রম ও জেদের প্রতীক। দু'জনেই ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের নাম অমর করে রেখেছেন।
  • Link to this news (আজকাল)