• ‘ফরাসিদের থামতে হবে…’, ভিডিও কল করে ছেলেকে উদ্বুদ্ধ করছেন ইয়ামালের বাবা
    প্রতিদিন | ১২ জুলাই ২০২৬
  • বিশ্বকাপ চলাকালীন গ্যালারিতে মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে লামিন ইয়ামালের বান্ধবী ইনেস গার্সিয়াকে। বিশ্বকাপ শুরুর কিছুদিন আগেই ব্যাপারটা সরকারিভাবে নিজেদের কথা জানান স্প্যানিশ ফুটবলার। ইনেস মূলত লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার। সোশাল মিডিয়ায় প্রচুর ফলোয়ার। বিশ্বকাপ চলাকালীন মাঝেমধ্যেই স্পানিশ সংবাদমাধ্যমে দেদার ছবি বিলোচ্ছেন। শুধু বান্ধবী কেন। আমেরিকার যে শহরে স্পেনের ম্যাচ পড়ছে, দলের সঙ্গেই যাচ্ছেন ইয়ামালের মা, ভাই-ও। কিন্তু বাবা মুনির নাসরাউই কোথায়?

    শুরুর দিকে অনেকে ভেবেছিলেন, প্রথম ম্যাচে আসেননি। হয়তো পরের ম্যাচেই চলে আসবেন। কিন্তু দল সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল। অথচ তাঁর বাবার দেখার নেই! অথচ তরুণ ইয়ামালের প্রতিটি সাফল্যর পিছনে তাঁর বাবার অবদান অনস্বীকার্য। স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্বকাপে ইয়ামালের বাবার অনুপস্থিতি, স্প‌্যানিশ সাংবাদিকদের কাছেও বেশ বিস্ময়ের হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    খেয়াল করে দেখবেন, গোল করেই আঙুল দিয়ে ‘৩০৪’ সংখ্যাটি দেখান ইয়ামাল। শুরুতে সবাই বুঝতে পারতেন না, গোল করে আঙুল দিয়ে কী দেখান তিনি? পরে জানা যায়, ৩০৪ হচ্ছে কাতালুনিয়ার রোকোফোন্ডা এলাকার পোস্টাল কোড। এই অঞ্চলেই বড় হয়েছেন ইয়ামাল। তাঁর বাবা মুনির নাসরাউই এখনও সেখানেই থাকেন।

    স্প্যানিশ ফুটবলারটি যখন খুব ছোট ছিলেন, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ছোট্ট ইয়ামাল, মা’র সঙ্গে থাকলেও ফুটবলের বীজটা যে সেই ছোট্ট থেকে তাঁর বাবাই মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাবার আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, ইচ্ছে থাকলেও লামিনকে ফুটবল খেলার জন্য বুট কিনে দিতে পারতেন না। দিন গুজরানের জন্য দিনমজুরের কাজ করা মুনির একদিন স্থানীয় এক জুতো ব্যবসায়ীকে ধরে অনুরোধ করেন, লামিনকে এক জোড়া খেলার বুট দেওয়ার জন্য। কথা দিয়েছিলেন, ছেলে বড় হয়ে সেই বুটের টাকা পরিশোধ করে দেবেন।

    পরিস্থিতি এখন এতটাই ঘুরে গিয়েছে যে, ইয়ামাল চাইলে, সেই জুতো ব্যবসায়ীর পুরো কোম্পানিই কিনে নিতে পারেন। কিন্তু বাবার সেই আত্মত্যাগ আর তাঁর প্রতি বাবার কঠোর পরিশ্রম ভোলেননি তারকা লামিন। যেখানে খেলতে গিয়েছেন, বাবাকে সঙ্গী করে নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সেই বাবাকেই আমেরিকা বিশ্বকাপের সময়ে দেখা যাচ্ছে না দেখে, সকলের চোখে বিস্ময়। সাংবাদিকরা বারবার জিজ্ঞাসা করার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন স্প্যানিশ তারকা। জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার জন্যই আমেরিকা আসার ধকল নিতে পারেননি মুনির। অসুস্থ শরীরে ছেলের সঙ্গে আমেরিকার এক শহর থেকে আরেক শহরে ট্রাভেল করা সম্ভব ছিল না। তা হলে উপায়?

    সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বাবাকে সত্যিই মিস করছেন লামিন। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে তিনি খেলতে নামছেন, অথচ বাবা পাশে নেই– তা ভাবতেই পারছেন না স্প্যানিশ তারকা। জানালেন, ম্যাচের আগে এবং পরে দীর্ঘ সময় ধরে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছেন তিনি। ভিডিও কলের মাধ্যমেই ছেলেকে যতভাবে উদ্বুদ্ধ করার করে যাচ্ছেন অসুস্থ মুনির। বাবা সঙ্গে না থাকলে কী হবে, ইয়ামাল ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিশ্বকাপে তাঁর প্রতিটি ম্যাচের পারফরম্যান্স উৎসর্গ করছেন তাঁর বাবাকে।

    তবে সেমিফাইনালে যেহেতু খেলতে হবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে, তাই চিন্তাটা স্বাভাবিক কারণেই একটু বেশি। কারণ, বিশ্বকাপ শুরুর দিন থেকেই সবাই মোটামুটি ভাবে ফ্রান্সকেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ধরে নিয়েছেন। তরুণ ইয়ামাল অবশ্য সে রাস্তায় হাঁটার বান্দা নন। ম্যাচের আগেই ম্যাচটা এমবাপেদের ছেড়ে দিতে চান না। ২০২৪-এর ইউরো আর ২০২৫-এর নেশনস লিগে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, দু’ক্ষেত্রেই সেমিফাইনাল ছিল। আর দু’ক্ষেত্রেই ফরাসিদের ভাগ্যাকাশ ঘন অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছিল স্পেন। ফলে যে কোনও প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল দেখলেই যে স্প্যানিশ ফুটবলারদের অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থির ক্ষরণ হতে শুরু করে, এই তথ্য মোটামুটি ভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাই ইয়ামাল মোটামুটি হুঙ্কারের সুরেই বলেছেন, “ফরাসিদের থামতে হবে স্পেনের কাছে।” হয়তো তাঁর বাবাই ভিডিওকলে এই বিশ্বাসটা জাগিয়েছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের মনে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)