স্কুলেই জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকা, ছাত্রীদের জন্য মেগা পরিকল্পনা স্বাস্থ্যদপ্তরের
প্রতিদিন | ১২ জুলাই ২০২৬
জরায়ুমুখ ক্যানসার ঠেকানোর টিকা পৌঁছে যাবে মেয়েদের স্কুলের দরজায়। গোটা স্কুলের পঞ্চাশ জন মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি পেলে সেই স্কুলেই টিকাকরণ শিবির করবে স্বাস্থ্য দপ্তর। তার আগে অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠক করতে বলেছে রাজ্য সরকার।
মে মাসের শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গে শুরু হয় জরায়ুমুখ ক্যানসার ঠেকানোর টিকাকরণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উদ্বোধন করেছিলেন সে কর্মসূচির। মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য দায়ী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার যে টিকা দিচ্ছে তা শরীরকে জরায়ুমুখ ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, মে মাসের শেষে বঙ্গে এইচপিভি ভ্যাকসিন শুরু হওয়ার পর ১০ জুলাই পর্যন্ত ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৯৪০ জন কিশোরীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত দু’সপ্তাহ ধরে হ্রাস পেয়েছে টিকাকরণের গতি। এই পরিস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে রাজ্য এইচপিভি টিকাকরণে গতি আনতে নয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
১৪ বছর বয়সিদের স্কুলের সব চেয়ে কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাকরণ শুরু হবে। এর জন্য প্রতিটি স্কুলকে বলা হচ্ছে, নিকটবর্তী আর্বান প্রাইমারি হেলথ ক্লিনিকের সঙ্গে ‘ম্যাপিং’ করতে। ছাত্রীদের মধ্যে ন্যূনতম পঞ্চাশ জনের অভিভাবক লিখিত সম্মতি দিলে স্কুলেই খুলবে জরায়ুমুখ ক্যানসার ঠেকানোর টিকাকরণ শিবির। প্রতি শিবিরে থাকবেন একজন মেডিক্যাল অফিসার, একজন টিকাদান প্রদানকারী স্টাফ, ডেটা ম্যানেজার। শিক্ষকদের মধ্যে থেকেই একজনকে কো-অর্ডিনেটর হিসাবে নিয়োগ করা হবে। যিনি ছাত্রীদের নথিপত্র খতিয়ে দেখবেন। আগে থেকে নাম ইউ উইন পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে না। যদি স্কুলে শিবির হয়, সে ক্ষেত্রে তিনটি ঘরের বন্দোবস্ত করতে হবে।
একটি ঘরকে করতে হবে ‘ওয়েটিং এরিয়া’ যেখানে ছাত্রীরা টিকা নেওয়ার আগে বসবে। ভ্যাকসিনেশন রুম এবং টিকা দেওয়ার পর ছাত্রীদের পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা রুম তৈরি রাখতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধুবাদ যোগ্য।