• দল ও সরকার গোলানো যাবে না, শাসকের ভূমিকা কী? বিজেপি সাংসদ-বিধায়কদের পাঠ শাহের!
    প্রতিদিন | ১২ জুলাই ২০২৬
  • বাংলায় এখন ক্ষমতায় বিজেপি। শাসক দলে থাকাকালীন জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের ভূমিকা কী হবে? তাই নিয়েই বঙ্গে দলের সাংসদ ও বিধায়কদের পাঠ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলা শাসন করতে গিয়ে দল ও সরকার গুলিয়ে ফেলা যাবে না। দু’টি বিষয়কে আলাদা করতে হবে। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বাংলার নেতাদের ভূমিকা কী হবে? তাও হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেবেন অমিত শাহ।

    জুলাই মাসে দ্বিতীয়বার পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দু’দিনের সফর। ১৮ জুলাই হাওড়ার সাঁকরাইলে বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানার শিলান্যাস করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি পরদিন অর্থাৎ ১৯ জুলাই নিজের দলের বিধায়ক, সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করবেন। সাঁকরাইলের সরকারি কর্মসূচিটি আগেই ঠিক ছিল। দলের সাংসদ-বিধায়ক ও রাজ্য নেতাদের নিয়ে বৈঠকের বিষয়টি পরে ঠিক হয়েছে। এই মুহূর্তে সদ্য বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। তাই বাংলার উপর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিশেষ নজর রয়েছে। এই প্রথম ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় ২০৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে এখানে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। 

    অন্য রাজ্যে কোথায় দ্বিতীয়-তৃতীয় বা চতুর্থ মেয়াদের সরকার চলছে। এখানে প্রথম। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ক্ষমতার হাত বদলের পরে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তর থেকে বেনোজলের মতো বহু কর্মী-নেতা বিজেপিতে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তা আটকানোর বার্তা দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাংলায় নবগঠিত বিজেপি সরকারের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে আগামী এক বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানেন মোদি-শাহরা। গত ১৫ বছরে পিছিয়ে পড়া বাংলাকে আবার স্বমর্যাদায় ফিরিয়ে দেওয়া বিজেপির লক্ষ্য। শিল্প-কর্মসংস্থান লক্ষ্য। পাশাপাশি বাংলার মানুষের আশা-ভরসার মর্যাদা দিতে হবে। 

    কাজেই বাংলায় বিজেপি যখন ক্ষমতায় তখন সমস্ত স্তরের নেতা থেকে বিধায়ক ও সাংসদদের ভূমিকা কী হবে? পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলের করণীয় কী হবে? তারই পাঠ ১৯ তারিখ দীর্ঘ বৈঠকে দেবেন অমিত শাহ। এদিকে, বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সদ্য প্রাক্তন তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে তাঁদের তিনজনের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিজেপি অফিসে তাঁদের দলে নেওয়া নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়তে হল দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। প্রশ্ন ছিল, তা হলে কি তৃণমূলের জন্য বিজেপির দরজা খুলে গেল? এই প্রেক্ষিতেই শমীক বুঝিয়েছেন, এটা ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। কেন তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে নেওয়া, সেটাও দলীয় বৈঠকে নেতৃত্বকে পরিষ্কার করে দিতে পারেন অমিত শাহ। যেহেতু দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। তাই শমীকের পরে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের বিষয়টি শাহ দলের কাছে ব্যাখ্যা দিতে পারেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)