কাছে গেলেই গা গুলিয়ে উঠবে, বর্ষায় মশা-মাছির উপদ্রবে টেকা দায়! এই রাস্তায় যাওয়ার আগে সবাধান
News18 বাংলা | ১১ জুলাই ২০২৬
শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলির অন্যতম খালপাড়া। কিন্তু সেই এলাকার বিবেকানন্দ রোডে পা রাখলেই চোখে পড়ে রাস্তার ওপর জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ। দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ এবং প্রতিদিনের যন্ত্রণা যেন এখানকার বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। শুধু স্থানীয়রাই নন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী অসংখ্য মানুষও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, আজকের নয়, গত ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে একই ছবি দেখা যাচ্ছে এই এলাকায়। একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানানো হয়েছে, সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। তবুও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আবর্জনার দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব এবং সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা জ্যোতিষ দাস বলেন, “এত বছর ধরে একই সমস্যা দেখে আমরা ক্লান্ত। প্রতিদিন বাড়ির সামনে আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকে। শিশু থেকে প্রবীণ—সবাইকে এই দুর্গন্ধের মধ্যে চলাফেরা করতে হয়। বহুবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আজও হয়নি। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই সমস্যার অবসান ঘটাক।”
আরও এক বাসিন্দা কানাই রায় বলেন, “এই রাস্তা শুধু আমাদের এলাকার নয়, বহু মানুষের যাতায়াতের পথ। বাইরে থেকে কেউ এলে শহর সম্পর্কে খারাপ ধারণা নিয়ে ফিরে যান। নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার এবং নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা না হলে এই সমস্যা কখনও মিটবে না। এখন নতুন প্রশাসনের কাছে আমাদের অনেক আশা রয়েছে।” এদিকে শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের বোর্ড ভেঙে প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর শহরের একাধিক নাগরিক সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
সেই কারণেই খালপাড়ার বাসিন্দারাও আশাবাদী, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার দিকেও দ্রুত নজর পড়বে। তাঁদের বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকি থাকলে এই রাস্তা আগের মতোই পরিষ্কার ও বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। এলাকাবাসীর একটাই আবেদন, রাস্তার উপর জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক। কারণ একটি পরিচ্ছন্ন রাস্তা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। এখন দেখার, বহু বছরের এই দুর্ভোগ ঘোচাতে প্রশাসন কতটা দ্রুত পদক্ষেপ করে।