মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই বীরভূমে অযোগ্যদের আবাস যোজনা প্রকল্পের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করল জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে নলহাটি ২ নম্বর ব্লকে ২২ জনকে টাকা ফেরতের নোটিস জারি করা হয়েছে। ভদ্রপুর ১ পঞ্চায়েতের মোস্তফাডাঙ্গা গ্রামে ২২ জন ভুয়ো তথ্য দিয়ে আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা তুলে নিয়েছেন বলেই অভিযোগ। তাদের প্রত্যেককে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে টাকা ফেরত দেওয়ার নোটিস পাঠিয়েছে ব্লক প্রশাসন।
যাদের নামে নোটিস পাঠানো হয়েছে তাদের অধিকাংশের পাকা বাড়ি থাকা সত্বেও আবাস যোজনা প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন। যদিও কেউ দেখাচ্ছেন পাকা বাড়ি ছেলেরা থাকে তাদের বাবার নামে বাড়ি এসেছে, কেউ বা বলছেন ছেলেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে তাই ছেলের নামে বাড়ি এসেছে। একাধিক আবাস যোজনা প্রকল্পের বাড়ি পাওয়া উপভোক্তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ বিস্তর। কেউ কেউ ওই টাকায় বিলাস বহুল কংক্রিটের বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছেন। কেউ আবার ভুয়ো নামে টাকা তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যোগ্য আবাস যোজনার বাড়ি না পাওয়াদের অভিযোগ, “যারা প্রকৃত যোগ্য তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। যারা বাড়ি পেয়েছেন তাদের প্রত্যেকের পাকা বাড়ি রয়েছে।”
তবে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ সত্ত্বেও অধিকাংশ আবাস যোজনার বাড়ি জন্য টাকা প্রাপকেরা টাকা ফেরৎ দিতে নারাজ। যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, “সাত দিনের মধ্যে টাকা ফেরৎ না দিলে তাদের সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে। এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” টাকা প্রাপক সাইদুল ইসলাম বলেন, “পাকা বাড়ি কাকাদের। আমি টাকা পেয়ে বাড়ি করতে শুরু করেছি। এখন বলছে টাকা ফেরত দিতে হবে। আমি ফেরত দেব কীভাবে নোটিসের পর সমস্যায় পড়েছি।” শেখ আনিকুল ইসলাম বলেন, “আমি ছেলের বাড়িতে থাকি। আমার নামে বাড়ি এসেছিল। সেই টাকায় নির্মাণ শুরু করেছি। এখন বলছে টাকা ফেরত দিতে হবে। না হলে জেল হবে।” নলহাটির ২ নম্বর ব্লকের বিডিও প্রিয়াঙ্কা সাধুখাঁ জানান, “তদন্তের পর টাকা ফেরতের নোটিস পাঠানো হয়েছে।” রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা জানান, “যারা তথ্য গোপন রেখে আবাস যোজনা টাকা নিয়েছেন তাদের ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”