• ‘দেরিতে বিয়ে ধর্ষণের অন্যতম কারণ’, মৌলানার মন্তব্যে বিতর্ক তুঙ্গে
    প্রতিদিন | ১১ জুলাই ২০২৬
  • ”বিয়েতে দেরি হওয়ার কারণেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। আপনারা যদি আপনাদের মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান, তাহলে তাদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিন।” এমনই মন্তব্য করে বিতর্কে অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌলানা সাজিদ রশিদি। তাঁর এহেন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা। ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি বলেছেন, যারা সংবিধান অনুযায়ী বাঁচতে চায় না, তাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।

    সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দিয়েছে মুসলিমদের মধ্যেও ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়েদের বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে পকসো আইনে মামলা রুজু হবে। এই রায়ের পর ‘মুসলিম পার্সোনাল ল’ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আর এই পরিস্থিতিতেই মৌলানার এমন মন্তব্য। যা ঘিরে নিন্দার ঝড়। বিজেপি নেতা সৈয়দ শাহনাওয়াজ হুসেন রশিদির মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেছেন, “এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এই ধরনের মন্তব্য করে উনি পুরো সম্প্রদায়কেই বদনাম করছেন। ওঁর এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

    যদিও নিজের মন্তব্য বিতর্কের ঝড় উঠতেই সাফাইও দিয়েছেন সাজিদ। তিনি বলেছেন, ”আমি এমনটা বলেছি, কারণ বর্তমান পরিস্থিতিই এমন। এখন এমন আইন পাশ করানো যেতে পারে যেখানে একজন নারী আরেক নারী, বা একজন পুরুষ অন্য পুরুষকে বিয়ে করার অনুমতি পেতে পারেন। আবার একজন বিবাহিত নারী কোনও আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই অন্য পুরুষের সঙ্গে বসবাস করতে পারেন। এমন আইন থাকা একটি দেশে যদি কেউ ধর্ষণ বা অন্যান্য প্রতিকূল ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে একটি মেয়ের বাল্যবিবাহের পরামর্শ দেয়, তখন সেটা অবশ্যই একটি রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠবে। মানুষ এর ভুল ব্যাখ্যা করবে। এই লোকগুলো কারা? আমার এটুকুই বলার আছে।” সেই সঙ্গেই তাঁর প্রশ্ন, “শরিয়া বা অন্য কোনও ধর্মের ভালো নীতিগুলো গ্রহণ করতে সমস্যা কোথায়?”

    তিনি আরও বলেন, ”আমার বক্তব্য নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। যাঁরা আইন তৈরি করেন, তাঁরা আইন ভাঙার ক্ষমতা রাখেন। এবং ভাঙেনও। তাঁরাই আমার বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করছেন। এই লোকেরা সামাজিক সংস্কার দেখতে চায় না। আমি সামাজিক সংস্কারের স্বার্থে কথা বলেছি। মেয়েদের প্রাপ্তবয়স্ক হলে বিয়ে দেওয়া উচিত, একথা ইসলামেই বলা আছে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)