আবাস যোজনার নামে টাকা তোলার অভিযোগে মেখলিগঞ্জে গ্রেফতার ২ TMC নেতা
আজ তক | ১১ জুলাই ২০২৬
PM Awas Yojana: সরকারি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ। এই অভিযোগে মেখলিগঞ্জের উচলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি ও পঞ্চায়েত সদস্য রাজকুমার বর্মন এবং তৃণমূল নেতা বাবুল হোসেন মিয়াঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাবুল হোসেন মিয়াঁ তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার স্বামী। বৃহস্পতিবার সকালে নিজেদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ হয়েছে কি না তা জানতে দুজনেই মেখলিগঞ্জ থানায় যান। সেখান থেকেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, উচলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩২ নম্বর বুথের একাধিক বাসিন্দাকে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সুযোগে পঞ্চায়েত সদস্য রাজকুমার বর্মন প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এশারুদ্দিন মিয়াঁ, বিনোদ মণ্ডল, অমিয় বালা বর্মন এবং দ্বিজেন্দ্রনাথ অধিকারী। তাঁদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েই এই টাকা নেওয়া হয়েছিল।
ভুক্তভোগী এশারুদ্দিন মিয়াঁর অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকার করলে ঘরের নাম কেটে দেওয়া হবে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হত। ভয় এবং মানসিক চাপে পড়েই তাঁরা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে শুধু টাকা ফেরতের দাবি নয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেও মেখলিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।
ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা ছতিশ রায়ের অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। তাঁর আরও দাবি, ভয় এবং চাপে এখনও অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে ধৃত বাবুল হোসেন মিয়াঁর পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের জেরে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কারও কাছ থেকে কোনও টাকা নেওয়া হয়নি। মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।