• বারুইপুর: ইন্দ্রজিতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ, দাদাকে চাকরি
    আজকাল | ১১ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সূর্যপুর পুলিশ আউটপোস্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু সাধারণ গণপিটুনির ঘটনা নয়, বরং পরিচয় জেনে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁর প্রাথমিক ধারণা। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত কিছু ব্যক্তি, উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী কিংবা অন্য কোনও সংগঠিত শক্তির ভূমিকা থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের ভিত্তিতেই হবে বলে তিনি জানান।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের একে একে গ্রেফতার করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে। তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, অপরাধীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

    নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের বড় ছেলেকে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর কর্মস্থল হবে সূর্যপুর পুলিশ আউটপোস্ট।

    তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের বাবার বার্ধক্য ভাতা এবং মায়ের অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধাও দ্রুত চালু করা হয়েছে। ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

    সূর্যপুরে নতুন পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্যাতিত নাবালিকার পরিবারের অনুরোধের ভিত্তিতেই অল্প সময়ের মধ্যে এই আউটপোস্ট চালু করা হয়েছে। এখানে দুই জন সাব-ইন্সপেক্টর, দুই জন এএসআই, ছয় জন পুরুষ কনস্টেবল, দুই জন মহিলা কনস্টেবল, আট জন সিভিক ভলান্টিয়ার, একটি মহিলা সহায়তা ডেস্ক ও একটি কন্ট্রোল রুম থাকবে। এলাকাজুড়ে ধাপে ধাপে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হবে।

    সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনায় তিনি বলেন, যারা রেললাইনে ইস্পাতের বিম ফেলে বড় দুর্ঘটনার চেষ্টা করেছে কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কোনও নিরীহ ব্যক্তি যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এলাকাবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। দোকানপাট ও স্বাভাবিক জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আক্রান্ত দুই পরিবারের নিরাপত্তায় হাউস গার্ডও মোতায়েন থাকবে।

    রাজ্যজুড়ে বেআইনি মদ, গাঁজা, চরস ও অন্যান্য মাদকচক্রের বিরুদ্ধে আগামী দুই সপ্তাহ বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এই বেআইনি নেশার কারবার, তাই গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র এই চক্র ভেঙে ফেলা প্রয়োজন।

    তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছে, তাদের পাশাপাশি মোবাইল ফোন বা সামাজিক মাধ্যমে উস্কানি ছড়ানো ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

    একই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) নিয়ে কাজ শুরু করবে। তাঁর বক্তব্য, “এক দেশ, এক আইন” নীতির দিকেই দেশ এগোচ্ছে।

    কামদুনি মামলার প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় রাজ্য সরকার আর ভুক্তভোগী পরিবারের বিরোধিতা করবে না। বরং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, নারী নির্যাতনের ঘটনায় কোনও রকম অজুহাত বা হালকা মন্তব্যকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না এবং সংবেদনশীলতার সঙ্গে প্রতিটি ঘটনার মোকাবিলা করা হবে।
  • Link to this news (আজকাল)