বৈঠক ডেকেছিল জেলা প্রশাসন। সেই বৈঠকে শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষেরই উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু তৃণমূল জমানায় যাঁরা তাঁকে জেল খাটিয়েছেন, মিথ্যা মামলা দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে বসে চা খাবেন না জানিয়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর অন্য কিছু কাজকর্মও রয়েছে। সেই কারণেই জেলাশাসককে বলে তিনি বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন।
রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তবে বাঁকুড়া জেলা পরিষদ ও ২২টি পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূলেরই দখলে। শনিবার বাঁকুড়ার সংখ্যালঘু ভবনে ১৬তম অর্থ কমিশনের পরিকল্পনা সংক্রান্ত বৈঠক ডেকেছিল জেলা প্রশাসন। বৈঠকে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা ছাড়া, ১২ জন বিধায়ক, জেলা পরিষদের সভাধিনেত্রী এবং প্রতিটি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের হাজির থাকার কথা ছিল। সেই মতো মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু ছাড়া সকলেই হাজির ছিলেন। ছিলেন মন্ত্রী দিবাকর ঘরামি এবং জেলা সভাধিনেত্রী অনুসূয়া রায়। গিয়েছিলেন নীলাদ্রিও। কিন্তু দেখা যায়, যে সময়ে অনুসূয়া সংখ্যালঘু ভবনে প্রবেশ করছেন, ঠিক সেই সময়েই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন নীলাদ্রি। সরকারি সূত্রে খবর, জেলাশাসককে নীলাদ্রিকে বৈঠকে থাকার জন্য অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু তিনি থাকতে চাননি। তাঁর কিছু কাজ আছে জানিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন।
পরে সংবাদমাধ্যমে নীলাদ্রি বলেন, ‘আগে জনগণের কাজ। সেটা বলেছি জেলাশাসককে। আর যারা আমাকে জেল খাটিয়েছে, তাদের সঙ্গে বসে চা খেতে রাজি নই।’ যদিও রাজ্য স্তরে অন্য ছবি দেখা গিয়েছে। প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যে দৃশ্য গত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় বিরল ছিল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের সঙ্গে বৈঠক করতে না চেয়ে নীলাদ্রির এ ভাবে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও নীলাদ্রি বলেন, ‘বিজেপির জন্মলগ্ন থেকে আমি বিজেপি করছি। নেতৃত্বের প্রতি সম্মান রয়েছে। তাঁরা যে ভাবে বলছেন, সে ভাবেই কাজ করছি। তবে আমারও তো কিছু নীতি-আদর্শ রয়েছে।’
এ নিয়ে অনুসূয়া অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘বিধায়কের সঙ্গে আমার কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। ওই বিধায়ক বৈঠকে এসেছিলেন কি না, সেটাও আমার জানা নেই।’