সরকারি চাকরির লোভে মা নীরজ শর্মাকে খুনের অভিযোগে আয়ুষী শর্মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বার সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃত নীরজের ভাই তথা অভিযুক্তের মামা শঙ্কর শর্মার দাবি, শুধু মা’কে নয়, চাকরির লোভে নিজের বাবা বিজয় শর্মাকেও খুন করে থাকতে পারে আয়ুষী। এমন দাবি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শঙ্করের দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জয়পুরের একটি আদালতে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক পদে কর্মরত ছিলেন নীরজ। গত ৩ জুলাই প্রতাপ নগরে ছেলেকে কোচিং সেন্টারে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় একটি স্করপিও গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে তাঁকে ধাক্কা মারে। ছিটকে অনেক দূরে গিয়ে পড়েন নীরজ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রথমে বিষয়টি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে সামনে আসে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের ছবি।
পুলিশের অভিযোগ, মেয়ে আয়ুষী শর্মার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছিল তাঁর মা নীরজের। প্রায় এক বছর আগে তাঁর স্বামী বিজয় শর্মার মৃত্যু হয়। তিনি সরকারি চাকরি করতেন। সেই চাকরিটি পান নীরজ। তদন্তকারীদের দাবি, সেখান থেকেই ক্ষোভের সূত্রপাত। সরকারি চাকরি ও সম্পত্তি নিজের দখলে আনতেই মাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন আয়ুষী।
তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় যোগ রয়েছে আয়ুষীর কাকা মোহন স্বরূপ এবং খুড়তুতো ভাই বলরাম ওরফে রবিরও। তাঁদের সঙ্গেই মেয়ে আয়ুষীও খুনের পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, এর পরেই ভরতপুরের বাসিন্দা হেমন্ত শর্মাকে ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নীরজকে খুন করার সুপারি দেওয়া হয়।
মামা রাকেশ শর্মার অভিযোগ, বিজয় শর্মা গুরুতর অসুস্থ হলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। সেই সময় আয়ুষীই তাঁর সঠিক চিকিৎসার পথ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, আয়ুষী ও বলরাম পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁরা বিজয়কে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রায় তিন মাস তাঁর কোনও খোঁজ ছিল না। পরে জানা যায়, বিজয়কে জয়পুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আত্মীয়রা সেখানে পৌঁছলে চিকিৎসকেরা নাকি জানিয়েছিলেন, তাঁর শরীরের ৯০ শতাংশই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। এর পরে আয়ুষী তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রাকেশের আরও অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পরেই আয়ুষী নাকি বাবার সরকারি চাকরিটা হাতাতে চেয়েছিলেন। পরিবারের সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে করে দেওয়ার দাবি তোলেন। রাকেশের দাবি, একবার ঝগড়ার সময়ে আয়ুষী তাঁর মাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাবার ফিডিং টিউব খুলে যদি তাঁকে মারা যায়, তবে তোমাকে মারা আরও সহজ।’ নীরজ শর্মা হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, তাঁর হাতে আর মাত্র দু’দিন সময় রয়েছে।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রঞ্জিতা শর্মা জানিয়েছেন, পলাতক বলরামের খোঁজে তল্লাশি চলছে। একই সঙ্গে নীরজ শর্মার পরিবারের পক্ষ থেকে বিজয় শর্মার মৃত্যু নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে তা-ও। তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে বিজয় শর্মার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ধারায় মামলা রুজু করা হবে, নাকি পৃথক মামলা দায়ের হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রসঙ্গত, এই মামলায় আয়ুষী-সহ মোট সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনও পলাতক রয়েছেন বলরাম ওরফে রবি।