ঠোঁটে ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল ১৮ মাসের এক শিশুকে। শুক্রবার আচমকা মৃত্যু হয় তার। মৃতের নাম দেবাংশ শৌর্য। শিশুর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতালের গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে তার। ঠোঁটে অস্ত্রোপচারের জন্য অ্যানাস্থেশিয়া দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তার পর থেকেই একরত্তির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে বলে অভিযোগ। একটানা পাঁচ দিন হাসপাতালে লড়াইয়ের পরে শেষে মৃত্যু হয় তার। কেরালার কান্নুর জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালের ঘটনা। শিশুর মৃত্যুর জন্য তার বাড়ির লোকজন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন। শিশুর পরিবারের তরফে ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় একটি FIR দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫ জুলাই বাড়িতে খেলতে খেলতে শিশুটির ঠোঁট কেটে যায়। রক্তপাত বন্ধ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে তড়িঘড়ি স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক শিশুটির ঠোঁটে সেলাই করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই কারণে অস্ত্রোপচারের আগে অ্যানাস্থেশিয়া বা অবশ করার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল একরত্তিকে। পরিবারের দাবি, অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়ার পরে থেকেই শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এর পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুকে ওই হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেটরে রেখেও শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার রাতে শিশুটি মারা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিশু বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল। বিয়ের দীর্ঘ আট বছর পরে তাঁদের কোলে সন্তান এসেছিল। ঘটনায় শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় FIR দায়ের করেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়ার পরে আচমকা শিশুটির হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল, যা অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত। পরিস্থিতি সামাল দিতে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে দেওয়া হয়। হাসপাতালের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ওষুধের সঠিক ডোজ় এবং সমস্ত রকম চিকিৎসার পরেও অনেক সময়ে অ্যানাস্থেশিয়ার কারণে এমন জটিলতা তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকরা শিশুটির জীবন বাঁচানোর জন্য সাধ্যমতো সবরকম চেষ্টা করেছিলেন।