প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে নদীতে ডুব সাঁতারের প্রতিযোগিতা, এ কী পরিণাম হল স্কুলছাত্রের? দেখুন
News18 বাংলা | ১১ জুলাই ২০২৬
প্রশাসনিক নির্দেশকে অমান্য করেই মহাবিপত্তি! বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে স্নান, তারপরেই নিখোঁজ! এদিন সকালে উদ্ধার হয়েছে নিথর দেহ। বর্ষায় উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর হু-হু করে বাড়তে থাকে। সেকারণে, বারংবার প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছিল নদী পাড়ে না যাওয়ার। কিন্তু , প্রশাসনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে প্রাণ গেল প্রাণবন্ত এক কিশোরের। এক রাতের উৎকণ্ঠার পর মিলল দশম শ্রেণির ছাত্রের নিথর দেহ।
ধূপগুড়িতে গিলান্ডি নদীতে তলিয়ে যাওয়া এক কিশোরের মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকাজুড়ে। মৃত কিশোরের নাম সোহম বসাক, সে দশম শ্রেণির ছাত্র। শুক্রবার বিকেলে ৫ বন্ধু মিলে গিলান্ডি নদীতে স্নান করতে নেমেছিল তারা। চলছিল নিজেদের মধ্যেই ডুব সাঁতারের প্রতিযোগিতা। সেই সময় আচমকাই জলের স্রোতে তলিয়ে যায় সোহম। বাকি ৪ জন বেঁচে ফিরলেও, জলের স্রোতে হারিয়ে যায় সোহম। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তার বন্ধুদের মধ্যে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা এবং প্রশাসনের তরফে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও বহু চেষ্টার পরও সোহমের কোনও খোঁজ মেলেনি। ফলে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রাত কাটান পরিবারের সদস্যরা। এলাকায়ও চরম উৎকণ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়। অবশেষে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে দক্ষিণ গোসাইরহাট এলাকায় নদীর জলে ভেসে ওঠে সোহমের নিথর দেহ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। তারা দেহটি উদ্ধার করে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরাও সেখানে পৌঁছে ভেঙে পড়েন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে নামার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের নির্দেশ না মেনে জলে নামতেই একটি আনন্দঘন বিকেল মুহূর্তে শোকে পরিণত হয়েছে।