অর্ঘ্য ঘোষ, সাঁইথিয়া
কেউ বলে তাঁর পায়ের তলায় সরষে, আবার কেউ বলে, তাঁর পায়ে নাকি চাকা লাগানো! কে কী বলল, তা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামান না পেশায় কাঠমিস্ত্রি গোপাল মাহারা। পুরীতে রথের চাকা গড়ানো দেখতে সাঁইথিয়া থেকে দু'চাকায় ভর করে পাড়ি দিয়েছেন তিনি।
সাঁইথিয়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোপাল ক্লাস ইলেভেনে পড়ার সময়ে একবার গোয়া চলে গিয়েছিলেন। পরিবেশ ভালো লাগায় সেখানেই একটি হোটেলে কাজ নিয়ে থেকে যান। মাসকয়েক পরে অবশ্য বাড়ি ফিরে আসেন। এখন অবশ্য বিয়ে করে সংসারী গোপাল। বাড়িতে স্ত্রী ছাড়াও বৃদ্ধা মা ও ভাই রয়েছেন। তবে বেরিয়ে পড়ার নেশাটি যায়নি তাঁর। মাস দুয়েক আগেই টানা ৪০ দিন সাইকেল চালিয়ে ঘুরে এসেছেন দেওঘর, কাশী, রামমন্দির, হরিদ্বার, ঋষিকেশ, কেদারনাথ। ১৬ জুলাই রথযাত্রা। আগের দিন অর্থাৎ ১৫ জুলাই পুরী পৌঁছতে চান তিনি। সেই লক্ষ্যেই রওনা দিয়েছেন বৃহস্পতিবার। সাঁইথিয়া থেকে পুরীর দূরত্ব প্রায় ৬৭৩ কিলোমিটার। প্রতিদিন ১০০ কিলোমিটার করে রাস্তা অতিক্রম করার লক্ষ্য গোপালের। রয়েছে শুকনো খাবার, জল, ওষুধ আর ফোল্ডিং তাবু।
মা অশোকা, স্ত্রী মুনমুন বলেন, 'কত জনের কত খারাপ নেশা থাকে। ওর নেশা বেড়ানো। বেড়ানোর নেশা তো খারাপ নয়। তাই বাধা দিই না। ওর কাছে বেড়ানোর গল্প শুনি।' প্রতিবেশী অতনু দে, তুহিন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতীক মণ্ডলরা বলেন, 'গোপাল মাঝেমধ্যে আমাদেরও সঙ্গী করতে চায়। কিন্তু সব সময়ে আমাদের সাহসে কুলোয় না। স্কুলবেলা থেকেই ও অসম সাহসী।'
প্রশংসা শুনে লাজুক হেসে গোপাল বললেন, 'কত লোক কত দর্শনীয় স্থান ঘুরে এসে গল্প করেন। সেই সব জায়গায় ঘুরে আসতে ইচ্ছে হয়। টাকা নেই, সাইকেলেই যতটা পারি, ঘুরে আসি। তাছাড়া সাইকেল চালানোটা তো ভালো ব্যয়াম।' পড়শিরা মজা করে বলেন, গরিবের 'ঘোরা' রোগ! ফের একবার লাজুক হাসেন গোপাল!