লালকেল্লা, দিল্লির সচিবালয় এবং দু’টি স্কুলে ‘বোমা রাখা আছে’ বলে হুমকি দিল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী। শনিবার ভোরে মুম্বই পুলিশের কন্ট্রোল রুমে এমন ফোন কল ঘিরে হইচই পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টা জানানো হয় দিল্লি পুলিশকে। এর পরেই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। তবে তল্লাশিতে বোমা বা অন্য কোনও বিপজ্জনক বস্তুর হদিশ মেলেনি। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এটি ‘ভুয়ো কল’।
দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এদিন ভোরে মুম্বই পুলিশের কন্ট্রোল রুমে একটি ফোন আসে। অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি জানায়, লাল কেল্লা এবং দিল্লির সচিবালয়ে বোমা রাখা আছে। সঙ্গে সঙ্গে হুলস্থূল পড়ে যায়। মুম্বই পুলিশ দিল্লি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে। তার পরেই লালকেল্লা ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। স্নিফার ডগ নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি।
দিল্লির সচিবালয়েও পৌঁছে যায় দিল্লির পুলিশের একটি দল। জোর কদমে চলে তল্লাশি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলও। তবে দু’টি জায়গা থেকেই এখনও পর্যন্ত বোমা বা সন্দেহজনক বস্তুর কোনও হদিশ মেলেনি। এ ছাড়াও, রাজধানীর দু'টি স্কুলেও ইমেলে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। সেখানেও পৌঁছয় পুলিশ, বম্ব স্কোয়াড। সেখানেও তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তবে কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
এ দিকে গত বছর দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত ১১ জনের ফরেন্সিক রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহে বিশেষ এনআইএ আদালতের বিচারক পীতাম্বর দত্তের এজলাসে ওই রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলায় ধৃত ৯ অভিযুক্তের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে এই বিস্ফোরণকাণ্ডে প্রায় ৭,৫০০ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছিল এনআইএ। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের ১০ নভেম্বর রাজধানীতে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়িতে শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হন। সব মিলিয়ে এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে এনআইএ। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন মামলার মূল অভিযুক্ত ডা. উমর উন নবীও। তদন্তে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িটি তিনিই চালাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।