প্রবল দুর্যোগ, অতি ভারী বৃষ্টিতে জল বাড়ছে নদীগুলিতে। হড়পা বানের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে পার্বত্য এলাকায়। এই অবস্থায় বিপর্যস্ত বন্যপ্রাণও! দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে লোকালয়ে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে হাতির দল। ঢুকে পড়ছে সেনা ছাউনি অথবা রিসর্টে। কোথাও পারাপার করতে গিয়ে আটকে পড়ছে মাঝনদীতে। মানুষও বহু জায়গায় হাতির দলকে তাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। কোথাও হাতির দল মানুষকেও তাড়া করছে।
বৃহস্পতিবার রাতে কুমারগ্রামে হাতির হানায় এক ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে। শুধু হাতি নয়। কোথাও দেখা মিলছে চিতাবাঘ। ভরা বর্ষায় এমন পরিস্থিতিতে উত্তরের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সমস্যার কথা অস্বীকার করেননি বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও। তিনি বলেন, “জঙ্গল থেকে বের হয়ে হাতি লোকালয়ে ঢুকছে। খবর মিলতে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক তারের বেড়া দিয়ে জঙ্গল এলাকা ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।” কিন্তু বনকর্মীরা চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন কোথায়? প্রবল বৃষ্টিতে জঙ্গল দিয়ে বয়ে চলা নদী ও ঝোরার জলস্তর বাড়তে হাতিও বন্যাতঙ্কে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। কোথাও দল বেঁধে, আবার কোথাও দলছুট হাতির দেখা মিলছে।
ভরা নদী পারাপার করতে গিয়ে তিস্তা, জলঢাকায় আটকে ছটফট করছে হাতির দল। অন্যদিকে, আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের অনেকে নদীর চরে আটকে থাকা হাতিকে ঢিল ছুঁড়ে তাড়াচ্ছে! হাতিও পালটা শুঁড়ে পাথর তুলে ছুঁড়েছে! শুক্রবার এমনই ঘটনা দেখা গিয়েছে নাগরাকাটায়। বিন্নাগুড়ি সেনা ছাউনির ভিতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে দাঁতাল হাতি। লাটাগুড়িতে রিসর্টে ঢুকে পড়েছে দলছুট হাতি। হড়পা বান ও ভূমিধসের ভয়ে দুধিয়া, গাড়িধুরার রাস্তায় হাতি আশ্রয় নিয়েছে হাতির দল। সুকনা জঙ্গলের আশেপাশে বড় হাতির দল ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। বনদপ্তর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। বাগডোগরার বিভিন্ন গ্রামে হাতির দল দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করেছে।
আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে শিলিগুড়ি জংশনের মাঝের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের বনাঞ্চল জুড়ে প্রায় প্রতিদিনই হাতির দল রেললাইন পারাপার করছে। বনদপ্তরের এক কর্তা জানান, বর্ষার মরশুমে পাহাড়-সমতলে প্রবল বৃষ্টির জেরে নদীনালা ফুলেফেঁপে উঠলে একদিকে যেমন, জঙ্গলে তৃণভূমির ক্ষতি হয়ে। খাবারের সমস্যা বাড়ে। অন্যদিকে বন্যপ্রাণীও নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। খরস্রোতা পাহাড়ি নদী উথাল-পাথাল হয়ে ওঠায় হাতিরা এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যেতে পারে না। ওই কারণে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এই সমস্যা নতুন কিছু নয়। কিন্তু তরাই-ডুয়ার্স ও সংলগ্ন এলাকায় জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় জনসংখ্যা বেড়ে চলায় এখন হাতি ও মানুষের সংঘাত নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।