• ‘আসল’ তৃণমূল কারা? বাড়তি সময় নিয়ে কমিশনে নথি জমা ঋতব্রত শিবিরের
    প্রতিদিন | ১১ জুলাই ২০২৬
  • কারা আদি? কারাই বা আসল? দ্বন্দ্ব কাটাতে এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে নথিপত্র জমা দিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেদের ‘আসল’ প্রমাণে মরিয়া ঋতব্রতপন্থীরা কমিশনের নির্ধারিত দিনক্ষণের তুলনায় বাড়তি সময় নিলেন। ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূল দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে। তাই দলের রাশ কার হাতে থাকবে, দলের আসল মালিক কে, সেই ফয়সালা করতে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে তৃণমূলের দুই শিবিরকে প্রমাণ পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। নির্দিষ্ট দিনে মমতাপন্থী ঘাসফুল শিবির নথি জমা দিলেও ঋতব্রতরা বাড়তি সময় চেয়েছিলেন। তাঁদের ১০ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। সেইমতো নির্দিষ্ট সময়মতো প্রমাণ পেশ করল ঋতব্রত শিবির। সূত্রের খবর, এরপর নিজেদের রাজ্য সভাপতি ঠিক করতে ফের বৈঠক করবেন তাঁরা।

    ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন জিতে বিধায়ক হয়েছেন। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে আলাদা হয়ে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেন একে একে ৬৩ জন। এখন তাঁদের সংখ্যা ৬৩। এই সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে তাঁরা দাবি করেন, তাঁরাই ‘আসল’ তৃণমূল। তবে শুধু বিধায়ক সংখ্যাতেই নয়, দলের রাশ হাতে নিতে গেলে সংগঠন এবং তহবিলও তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দরকার। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে তার প্রমাণ দিতে হবে। সেইমতো কমিশন ৬ জুলাইয়ের মধ্যে দুই শিবিরের কাছে প্রমাণ চায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের তরফে গত সোমবার মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাগরিকা ঘোষ কমিশনে গিয়ে নিজেদের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করে।

    কিন্তু নির্ধারিত দিনে নথি জমা দেয়নি ঋতব্রত শিবির। তারা আরও চারদিন বেশি সময় নিয়ে শুক্রবার কমিশনে নথি জমা দিল। এবার কাদের কমিশন ‘আসল তৃণমূল’ বলে সিলমোহর দেবে, তা কমিশনের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এখন তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)