প্রাক্তন ডিসিপির শান্তনু সিনহার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ ইডির, মিলল বিপুল সম্পত্তির হদিশ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১১ জুলাই ২০২৬
কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। সেই চার্জশিটে শান্তনুর বিরুদ্ধে রয়েছে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। দুর্নীতির মাধ্যমেই এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তা কয়েক কোটি টাকা রোজগার করেছেন বলে চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে। ইডির পেশ করা ১১৪ পাতার চার্জশিটে ২৬ জন সাক্ষীর বয়ান রয়েছে। চার্জশিটে প্রাক্তন ডিসিপির বিরুদ্ধে জমি দখল থেকে দেদার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
আদালতে পেশ করা চার্জশিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শান্তনুর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত বেআইনিভাবে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের হিসেব মিলেছে। তবে পুরো তদন্ত শেষ হলে টাকার পরিমাণ নিশ্চিতভাবেই অনেকটা বাড়বে বলে মনে করছেন ইডির তদন্তকারীরা। তদন্তে দেখা গিয়েছে, শান্তনুর আয়ের তুলনায় তাঁর সম্পত্তির হিসেব মিলছে না। এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তার হিসেব বহির্ভূত বিপুল সম্পত্তি রয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতে মে মাসে কসবার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল ইডি। সেই তদন্তেই ইডির নজর পড়ে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও তাঁর বিপুল পরিমাণ বেআইনি সম্পত্তির দিকে। শুরু হয় তদন্ত। তদন্ত শুরু করে ইডির তদন্তকারীরা জানতে পারেন, শুধু কলকাতা নয় একাধিক জেলাতেও নিজের পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে বিপুল জমি দখল করেছেন শান্তনু। তাঁর ছত্রছায়াতেই নির্ভয়ে দখলদারি, উচ্ছেদ চালিয়ে গিয়েছে সোনা পাপ্পুর মতো দুষ্কৃতীরা। পাশাপাশি সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্তে জয় কামদার নামে আর এক প্রমোটারের নামও সামনে আসে। তদন্তে জানা যায়, শান্তনু ও জয় কামদার যৌথভাবে বিভিন্ন জেলায় জমি দখল করে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা ফেঁদে ছিল। নিজের পুলিশ পরিচয়কে সামনে রেখেই সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে জোর করে তাঁদের জমি বা বাড়ি দখল করতেন এই পুলিশ কর্তা। শান্তিনিকেতনে শান্তনুর বাড়ির সন্ধানও মিলেছে। প্রাক্তন ডিসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পরে শান্তনুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। কিন্তু তদন্তে তিনি সহযোগিতা করছেন না, এই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় শান্তনু সিনহাকে।
এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তাকে গ্রেপ্তারের মাস খানেকের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থা ইডি তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল। দুর্নীতির এই মামলায় এটাই প্রথম সাপ্লিমেন্টরি চার্জশিট। ইডির দাবি, প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু তদন্তে কোনও রকম সহযোগিতা করছেন না। দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি কত টাকা আত্মসাৎ করেছেন, কী পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি করেছেন তা জানতে আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে তদন্তকারী সংস্থা ইডি চার্জশিটে উল্লেখ করেছে।