রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল সরকারের জায়গায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। কিন্তু সরকার বদলালেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে অভিযোগের শেষ হচ্ছে না। একদিকে বহু মহিলা অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পরও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা না পৌঁছানোর অভিযোগ তুলছেন। অন্যদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, যাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ছে, তাঁদের অজান্তেই সেই টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারি প্রকল্পের অর্থ প্রকৃত উপভোক্তার হাতে পৌঁছনোর আগেই তা আত্মসাতের অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বীরভূম জেলার ময়ূরেশ্বর বিধানসভার উলকুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনগর এলাকায় এমনই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, আব্বা উদ্দিন মল্লিক নামে এক সিএসপি (কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট) এজেন্ট অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা ঢোকার পর তাঁদের অজান্তেই সেই টাকা তুলে নিচ্ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উপভোক্তারা পরে ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারেন যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা জমা পড়েছিল। কিন্তু সেই টাকা ইতিমধ্যেই তোলা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা।
অভিযোগ জানাজানি হতেই অভিযুক্ত সিএসপি এজেন্টকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ময়ূরেশ্বর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। বহু মহিলা দাবি করেছেন, অফলাইনে ফর্ম জমা দেওয়ার পরও তাঁদের অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পৌঁছয়নি। সেই অভিযোগকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এরই মধ্যে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর তা আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি অনুদানের অর্থ প্রকৃত উপভোক্তার হাতে পৌঁছনোর আগেই তা লোপাটের অভিযোগে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।