• স্পেনের তিকিতাকা কি হারিয়ে যাচ্ছে? কী বলছেন ভারতের ফুটবল বিশেষজ্ঞরা?
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • বিশ্ব ফুটবলে স্পেন (Spain) একটা সময়ে শুধু একটি দল ছিল না, ছিল একটি দর্শন। ছিল এক ধরনের শিল্প। ছোট ছোট পাস, বলের উপর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, আর প্রতিপক্ষকে ছুটিয়ে ছুটিয়ে ক্লান্ত করে দেওয়ার সেই তিকিতাকা ফুটবল, যা গোটা বিশ্বের কাছে বিস্ময় হয়ে উঠেছিল। জ়াভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুস্কেতসদের হাত ধরে স্পেন এমন এক যুগ তৈরি করেছিল, যা ফুটবলের ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

    কিন্তু ফুটবল কখনও থেমে থাকে না। সময়ের সঙ্গে বদলায় খেলার ধরণ, বদলায় কৌশল। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের (Belgium) বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে আবারও উঠছে পুরনো প্রশ্ন— সেই বিখ্যাত তিকিতাকা কি হারিয়ে যাচ্ছে? নাকি নতুন রূপে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ফিরে এসেছে স্পেন? কী বলছেন ভারতের ফুটবল বিশেষজ্ঞরা?

    পাসের সৌন্দর্য আছে, বদলে গিয়েছে তার উদ্দেশ্য

    ভারতের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার মেহতাব হোসেনের মতে, ‘বর্তমান স্পেনকে বুঝতে গেলে শুধু বল দখলের পরিসংখ্যান দেখলে হবে না। আগের স্পেন অনেক সময় প্রতিপক্ষকে পাসের জালে আটকে রাখত। এখনকার স্পেন জানে কখন ধৈর্য ধরতে হবে, আবার কখন হঠাৎ গতি বাড়িয়ে আঘাত করতে হবে।’

    ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও মনে করেন, তিকিতাকা আসলে কোথাও হারিয়ে যায়নি। তিনি বলেছেন, ‘আধুনিক ফুটবলের চাহিদা মেনে স্পেন নিজেকে বদলে নিয়েছে। এখন স্পেন শুধু বল ধরে রাখার জন্য পাস খেলে না। প্রতিটি পাসের লক্ষ্য থাকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক খুঁজে বের করা। সুযোগ মিললেই দ্রুত আক্রমণে উঠে গিয়ে ম্যাচের গতি বদলে দিতে চাইছে তারা। আজকের স্পেনের ফুটবলে এখনও সেই পুরনো ছাপ রয়েছে, তবে ২০১০ সালে যে দলটা বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেই স্পেনের সঙ্গে তুলনা চলে না। ওই দল একেবারে আলাদা ছিল।’

    ইয়ামাল-নিকোদের হাত ধরে নতুন স্পেন

    এক সময় স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল মাঝমাঠ। এখন সেই ছবিতে নতুন রং যোগ করেছেন লামিনে ইয়ামাল (Lamine Yamal) ও নিকো উইলিয়ামস (Nico Williams)। তাঁদের গতি, সাহসী আক্রমণ এবং একাই ম্যাচের চেহারা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা স্পেনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

    মোহনবাগানের প্রাক্তন তারকা বিদেশি প্লেয়ার হোসে ব্যারেটোর মতে, ‘বর্তমান স্পেনকে শুধু তিকিতাকার দল বললে ভুল হবে। এই দল প্রতিপক্ষকে শুধু পাস দিয়ে হারাতে চায় না, গতির ঝড় তুলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে পারে। উইং ধরে আক্রমণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ে জেতার ক্ষমতা স্পেনকে অনেক বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছে। আগের স্পেন ছিল ধৈর্যের প্রতীক, আর এখনকার স্পেন ধৈর্য ও গতির নিখুঁত মিশ্রণ।’

    বেলজিয়ামের সামনে সত্যিকারের পরীক্ষা

    চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি স্পেন। শেষ ষোলোয় ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর (Cristiano Ronaldo) পর্তুগালকে (Portugal) ছিটকে দিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে তারা। অন্যদিকে বেলজিয়ামও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। আমেরিকাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে।

    তাই এই কোয়ার্টার ফাইনাল শুধু সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়। এটি স্পেনের নতুন পরিচয়েরও পরীক্ষা। বহু বছর আগে যে দল ফুটবলকে শিল্পে পরিণত করেছিল, সেই দল এখন আধুনিক ফুটবলের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন পথ তৈরি করছে। তিকিতাকার সৌন্দর্য আর গতিময় আক্রমণের মিশেলে তৈরি এই নতুন স্পেন কতটা শক্তিশালী, তার উত্তর মিলবে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের মহারণে।
  • Link to this news (এই সময়)