‘বক্সীবাড়ির বৌ হিসেবে শুধু আমি পরিচিত নই...’, রাজ্যের পালাবদল থেকে ‘চটিচাটা’ মন্তব্য নিয়ে কী বললেন সুদীপ্তা
এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
রাজনীতির আঙিনায় তারকা সমাবেশ একেবারেই নতুন নয়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বহু তারকার টিকিট পাওয়া নিয়ে জল্পনা ছিল। সেই তালিকায় ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে শোনা গিয়েছিল অভিনেত্রী সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়: তিনি তৃণমূল নেতা-নেত্রী সঞ্জয় বক্সী ও স্মিতা বক্সীর পুত্রবধূ। ছোট পর্দার অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ সুদীপ্তা। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে শুরু করে তৎকালীন সরকার আয়োজিত বহু অনুষ্ঠানেই দেখা গিয়েছে সুদীপ্তাকে। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘চটিচাটা’ মন্তব্য, ‘এই সময় অনলাইন’-এর সঙ্গে শেয়ার করলেন মনের কথা।
বক্সীবাড়ির পুত্রবধূ বর্তমানে ‘ঘূর্ণি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। এ ছাড়াও চলছে বেশ কিছু নতুন কাজের আলোচনা। বড় পর্দায়ও নতুন কোনও ভূমিকায় তাঁকে দেখা যাবে বলে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে খবর ছড়িয়েছে ইদানীং। এ ব্যাপারে সুদীপ্তা একগাল হেসে শুধু বললেন, ‘কথা তো অনেক হয়, কাজ ক’টা হয়?’
পালাবদল প্রসঙ্গে...
‘মানুষ চেয়েছে, তাই পরিবর্তন এসেছে। যে ভাবে সিপিএম চলে গিয়ে মমতাদির সরকার এসেছিল, ঠিক সেই ভাবেই ১৫ বছর পরে মানুষ চেয়েছে, তাই বিজেপি এসেছে। আমরা তো সকলেই খুব সাধারণ মানুষ। তাই তাকিয়ে রয়েছি ভালো কিছু যাতে হয়। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও এ টুকুই চাওয়া, সব কিছু যেন সুন্দর হয়।’
অফিশিয়াল ‘তৃণমূল’ নই...
‘তৃণমূল কংগ্রেসে তো আমার কোনও দিন অফিশিয়াল জয়েনিং কখনও হয়নি। আমি একটা পলিটিক্যাল ফ্যামিলির বৌ। শ্বশুরমশাই সঞ্জয় বক্সী মমতাদির প্রথমদিনের সঙ্গী। স্মিতা বক্সী সম্পর্কেও আলাদা করে বলার কিছু নেই। আর সৌম্য ২০১১ সাল থেকে খুব মন দিয়ে সক্রিয় ভাবে পলিটিক্সটা করছে। আমি ওই বাড়ির বৌ হিসেবে তৃণমূলের প্রতিটা মিটিং, মিছিলে গিয়েছিলাম, তা তো নয়। ২০২১ থেকে দিদির প্রতিটা অনুষ্ঠানে যেতাম। কারণ, বেশ কয়েকজন শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হতো। সেই তালিকায় ছিলাম বলে আমিও যেতাম।’
পারিবারিক সম্পর্ক...
‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমাদের পরিবারের ভীষণই ভালো সম্পর্ক। আমার শ্বশুরমশাই দীর্ঘ বছর কংগ্রেস করেছেন। তাই সকলের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক। আর রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও অন্য দলের কারও সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকতে পারে না, সেটা তো নয়।’
মেয়েদের সুরক্ষা প্রয়োজন...
‘এখন নতুন তৃণমূল, পুরোনো তৃণমূল হয়েছে — এ সব আমি সত্যিই বুঝি না। শুধু এ টুকুই মনে করি, নতুন সরকার যখন এসেছে, আমাদের মেয়েরা যেন সুরক্ষিত ভাবে চলাফেরা করতে পারে। একটা সময়ে রাত ১২টায় রাস্তায় থাকলেও অসুবিধা হতো না, এখন ৯টায় বাড়ি ফিরলেও ভয় করে। সেটা যেন না হয়। মেয়েদের স্বাধীনতা যেন থাকে।’
টিকিট পাননি বলে আক্ষেপ?
‘আমরা শুনেছিলাম যে, বক্সীবাড়ি থেকে একটা টিকিট কেউ না কেউ পাচ্ছে। আমার আশা করার কথাই নয়, কারণ আমার কোনও রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। ফলে রাজনীতি সম্পর্কে আমার আইডিয়া এই বাড়ির বাকি সদস্যদের থেকে অনেকটাই কম। সে ক্ষেত্রে আমি ভেবেছিলাম শাশুড়িমা বা শ্বশুরমশাইয়ের মধ্যে কেউ একজন পেতে পারেন। তার পর যখন পেলাম না, তখন বুঝেছিলাম, হয়তো আমাদের যোগ্য মনে করেননি, তাই দেননি।’
বক্সীবাড়ির বৌ হওয়ায়...
‘আমি ২০০৮ থেকে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে। বক্সীবাড়ির বৌ হিসেবেই শুধু আমি পরিচিত নই। আর এই অভিনেত্রী পরিচয় সম্পূর্ণ নিজে তৈরি করেছি। আমার বিরাট এক্সপেকটেশন নেই জীবনের থেকে। যে কাজটা করি, সেটা ভালো ভাবে করতে চাই। যা পেয়েছি জীবনে, তার থেকে বেশি কিছু যদি পাই, মনে করব ঈশ্বরের আশীর্বাদ।’
‘চটিচাটা’ মন্তব্য শুনতে হয়েছে বহুবার...
‘অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অনেক খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কুমন্তব্যও শুনতে হয়। আমরা নাকি অনেক কম্প্রোমাইজ় করলে তার পরিবর্তে কাজ পাই। পোশাক নিয়েও কত কথা হয়। দিদির পাশে দাঁড়ালেই ‘চটিচাটা’ শুনতে হয়েছে বহুবার। আসলে সোশ্যাল মিডিয়া এখন এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে, যেখানে সব কিছুর জন্যই কথা শুনতে হবে। সত্যি বলতে কে কী বলল, আমার তাতে এখন আর কিছুই যায় আসে না। বিষয়গুলো ইগনোর করি। তবে আমি শুধু একজন শিক্ষিত নাগরিক হিসাবে এই মুহূর্তে যে জিনিসটা ভীষণ ভাবে দেখছি, একের পর এক ডিম ছোড়ার ঘটনা... সত্যিই চাই সেগুলোও বন্ধ হোক।’