• ৩ দিনে উদ্ধার ৪০ নাবালিকা, পাচারের অভিযোগে কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • তিন দিনে উদ্ধার চল্লিশেরও বেশি নাবালিকা। ইসলামপুরের চম্পাবাগের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে এই নাবালিকাদের উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেও চার জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই এলাকা থেকে। ওই রাতে ঘটনাস্থলে যান বিজেপি নেত্রী এবং ওই এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, পাচার করে নিয়ে আসা হয়েছিল এই নাবালিকাদের। গোটা পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী লোকজন, দাবি বিজেপি নেত্রীর। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিসারের স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ঘটনাচক্রে সেই ব্যক্তি স্থানীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা। শ্রীরূপার দাবি, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা পলাতক। বিজেপির অভিযোগের পাল্টা কোনও বক্তব্য দেননি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। স্থানীয় কাউন্সিলারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি।

    বৃহস্পতিবার রাতে ওই এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এটাই প্রথম নয়, এর আগে কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় এই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। বহু নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে, কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছে। সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া নাবালিকারা বিহারের বাসিন্দা।

    শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর দাবি, ‘বিজেপি সরকার শিশুকন্যাদের নিয়ে বেচা-কেনা করতে দেবে না। এই এলাকায় গত সাতদিনে বহু নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের সহায়তায়, একাধিক এনজিও-র সহায়তায় অভিযান চলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকার এই সবের পৃষ্ঠপোষক ছিল। এখানকার কাউন্সিলার পালিয়ে গিয়েছেন।’

    গত শুক্রবার রাতেও এই এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল ইসলামপুর জেলার পুলিশ। সেই দিন ১৭ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করে চার জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গোপন সূত্রে পুলিশ জেনেছিল, বিহার থেকে একাধিক নাবালিকাকে পাচার করে চম্পাবাগ এলাকায় এনে রাখা হয়েছে। তারপরেই অভিযানে নামে পুলিশ। ওই অভিযানের পরে ইসলামপুর পুলিশ জেলার এসপি রাকেশ সিং বলেছিলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’ উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)