• তারাপীঠের মহাশ্মশানে চলে গিয়েছেন অমৃতা? সারা রাত খুঁজে বেড়ালেন বৃদ্ধ অর্ধেন্দু, তার পর...
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • মেয়ে ছোট থেকেই ঠাকুরভক্ত। কিন্তু কলেজের পড়াশোনা শেষ করার পর থেকে ঠাকুরভক্তিতেও অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন মা-বাবা। ঠাকুরনাম জপ করা, ধর্মগ্রন্থ পড়া— সারা দিন এ সব নিয়েই থাকতেন। তা হলে কি আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকেই কোথাও চলে গিয়েছেন মেয়ে অমৃতা সিনহা? এই ভাবনা থেকেই বৃহস্পতিবার সারা রাত তারাপীঠ শ্মশানে কাটালেন বাবা অর্ধেন্দু সিনহা। সেখানেই খুঁজে বেড়ালেন মেয়েকে।

    গত ১৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ সিউড়ির বছর চব্বিশের তরুণী অমৃতা। বীরভূম জেলা পুলিশ তাঁর খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে। কলকাতা পুলিশ এবং সিআইডি-রও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। বাবা অর্ধেন্দুও নিজের মতো করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মেয়ের খোঁজ চালাচ্ছেন। তাঁর গলায় একটি প্ল্যাকার্ড ঝোলে। তাতে অমৃতার ছবি, নাম-পরিচয় এবং দৈহিক গঠনের বর্ণনা লেখা। বৃহস্পতিবার সকালেও এই ভাবেই তারাপীঠে যান অর্ধেন্দু এবং তাঁর স্ত্রী সুপ্রিয়া। সেখানে কথা বলেন স্থানীয় হোটেল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। অমৃতার ছবি দেখিয়ে জানতে চান, তাঁরা মেয়েকে কোথাও দেখেছেন কি না। তার পরে রাতের দিকে শ্মশানে যান অর্ধেন্দু। তাঁর আশা ছিল, তারাপীঠ মহাশ্মশানে যে তন্ত্রসাধনা হয়, সেখানে হয়তো মেয়েকে পাওয়া যাবে। কথাও বলেন তান্ত্রিকদের সঙ্গে। কিন্তু সারা রাত ঘোরাঘুরির পরেও মেয়ের খোঁজ পাননি বাবা।

    শুক্রবার সকালে তারাপীঠ থেকে সিউড়ি ফিরতে ফিরতে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত অর্ধেন্দু বলেন, ‘কোনও ভাবেই মেয়েটাকে খুঁজে পাচ্ছি না। কী করব, বুঝতেও পারছি না। স্ত্রীও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে। আমারও শরীর খারাপ। কিন্তু কী আর করব? আমি তো বাবা। আমার মেয়ে খুব ঠাকুরভক্ত ছিল। তাই বিভিন্ন মন্দির-আশ্রম বা তন্ত্রসাধনার জায়গাগুলোয় মেয়েকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। তারাপীঠেও দেখলাম। এখানেও পাওয়া গেল না। এখন মা তারার কাছে আমার একটাই প্রার্থনা, মেয়েটাকে যেন জীবদ্দশায় দেখতে পাই!’

    এর আগেও মেয়ের খোঁজে ধর্মীয় স্থানে গিয়েছিলেন অর্ধেন্দু। তার জন্য নানা সমস্যাতেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। দম্পতির থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার নামে নানা টোটকার বিনিময়ে টাকাপয়সা হাতানোর ছকও করা হয়। সেই ফাঁদে যদিও পা দেননি তাঁরা। আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অর্থেই কোনও রকমে তাঁদের সংসার চলছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ‘অসাধু’ চক্রের ফাঁদে পা না দিয়ে বাড়ি ফিরে যান তাঁরা। অপেক্ষা কবে মেয়েকে ফিরে পাবেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)