পুরসভা এলাকায় কর্তব্যরত অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। এ ছাড়া যে সাফাই কর্মীরা দু’বেলা কাজ করবেন, তাঁদের বেতনও দ্বিগুণ হবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৃহস্পতিবার আসানসোলে এ কথা জানান তিনি। তবে সাফাই কর্মীদের দিকটি যেমন সরকার দেখবে, একই ভাবে সাধারণ মানুষের পরিষেবায় যাতে কোনও খামতি না থাকে, তা-ও বুঝে নেবে সরকার। সাফাই কর্মীরা নির্দিষ্ট এলাকায় ঠিকমতো কাজ করছেন কি না তা নজরে রাখতে আধুনিক ব্যবস্থা চালু হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মূলত শহরাঞ্চলের নিকাশি সাফাই ব্যবস্থা যাতে সুন্দর ভাবে হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।
প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের মতে, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নের দায়িত্ব সামলানো বোধহয় সব থেকে চ্যালেঞ্জিং। কারণ, এই দপ্তরের কাজ মানুষের রোজকার জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িয়ে। এমন সব পরিষেবার দায়িত্ব এই দপ্তরের ঘাড়ে, যেখানে পান থেকে চুন খসলে ফুঁসতে থাকেন পুরবাসী। পুর এলাকা হোক বা কর্পোরেশন এরিয়া, সেখানকার সার্বিক স্বচ্ছতার দেখভাল করতে হয় এই বিভাগকে। দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রথম থেকেই মানুষের পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ, আরও গতিময় করতে চেষ্টা করছেন এই দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এ বার অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের সুবিধার্থেও একাধিক উদ্যোগের কথা জানালেন তিনি।
দু’বেলা সাফাই ও নিকাশি কাজ করা নিয়ে সম্প্রতি আসানসোল পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। কর্মীদের একাংশ কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁরা যে বেতন পান, তাতে দু’বেলা কাজ করা সম্ভব নয়। সেই বিভ্রান্তি বৃহস্পতিবার দূর করেছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, বিষয়টি কেন্দ্রের নির্দেশেই হয়েছে। শহরাঞ্চলের ব্যস্ততম এলাকা যেমন বাজার হাট, বাসস্ট্যান্ড-সহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দিনের দ্বিতীয়ার্ধেও সাফাই, নিকাশি করতে হবে।
অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘এই কাজের বিনিময়ে সকালে যে বেতন দেওয়া হয়, বিকেলেও তা দেওয়া হবে।’ তবে তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়মিত কাজে আসতে হবে। তিনি অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাঁরা তিন মাস কাজে আসেননি, তাঁদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে।
এ দিন পুরমন্ত্রী জানান, অস্থায়ী সাফাই কর্মীদেরও স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সাফাইকর্মীদের কী ভাবে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা হবে, সে বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেবেন। বিশেষত, আসানসোল পুরসভার সাফাই কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। তা নিয়েও বৃহস্পতিবার পুরমন্ত্রী জানান, সাফাইকর্মীদের সচিত্র পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সাফাই কর্মীদের জন্য ‘স্বচ্ছ কবচ’ চালু করেছে রাজ্য সরকার।। বুধবার এই কিটের আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সারা রাজ্যে ২ লক্ষ স্বচ্ছ কবচ কিট দেওয়া হবে।
এলাকা ভিত্তিক সাফাই কর্মীদের যে সব অঞ্চলে ও বাড়িতে বর্জ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত করা হয়েছে, তাঁরা সেখানে ঠিক মতো যাচ্ছেন কি না, তাতে নজরদারি চলবে এ বার থেকে। সাফাই কর্মীদের গাড়িতে কিউআর কোড বসানো থাকবে। যাতে সহজে বোঝা যায়, তাঁরা কখন, কোথায় যাচ্ছেন। ঠিকমতো সাফাই ও নিকাশির কাজ করছেন কি না। মোটের উপরে স্বচ্ছ বাংলা গড়ে তুলতে সবরকম ভাবেই উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
রিপোর্টিং: সুশান্ত বণিক