কোনও জায়গায় বন্যা হলে সঙ্কটের মুখে পড়ে নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরিষেবা। জমা জল থেকে সংক্রমণ, ডায়েরিয়া-জ্বরের প্রকোপ, বিষাক্ত সাপের উপদ্রব— বিপদের শেষ নেই। সেখানেই পরিকল্পনামাফিক চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে চমকে দিয়েছেন মালদার মানিকচকের ব্লক স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। সেই দৃষ্টান্তের কথা তুলে ধরা হলো আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থার জার্নালে। আপ্লুত জেলার স্বাস্থ্য কর্মীরা।
বন্যায় ঘর-বাড়ি ভেসে যাওয়া, চাষের জমির ক্ষতিতে এমনিতেই আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় গ্রামবাসীদের। জল কিছুটা নামলে আরও বড় সমস্যা ঘিরে ধরে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে টানা দু’বছর বন্যায় প্লাবিত হয়েছে মালদার মানিকচক ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিশেষ করে ভূতনি চরের লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে পরপর দু’বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছে মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্ত স্তরের কর্মীরা।
মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ অভিক শঙ্কর কুমার বলেন, ‘আমরা এই দু’বছরে ৮ হাজারের বেশি ক্যাম্প, টেম্পোরারি হাসপাতাল, ওয়াটার অ্যাম্ব্যাল্যান্স, পাড়ার পাড়ায় ব্লিচিং ব্যবস্থা, গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ তিনি জানান, এই দুই বছরে বন্যার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ছিল না বললেই চলে। স্বাস্থ্য বিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য বড় কোনও বিপদ ঘটেনি। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশে ছিল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর ও জেলা প্রশাসনও।
স্বাস্থ্য কর্মীদের সেই অক্লান্ত পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সাইন্টিফিক রিসার্চ সংস্থা। আন্তর্জাতিক স্তরে বের হওয়া তাদের জার্নালে তুলে ধরা হয়েছে স্বাস্থ্য কর্মীদের সেই পরিশ্রম। বন্যা পরিস্থিতি হলে কী ভাবে পরিষেবা পৌঁছে দিতে হয়, তার জন্য এক অন্যরকম দৃষ্টান্ত গড়েছে মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য বিভাগ। এই ‘মডেল’কে দেশের বা বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের বন্যা পরিস্থিতিতে কাজে লাগানো হলে তাঁদের এই পরিশ্রম বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা।