বর্ষাকাল, সমুদ্রে মাছ শিকারের সময়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় ৩ হাজার ট্রলার ও বড় নৌকো সমুদ্রে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছে। কিন্তু তারই মধ্যে একটি ট্রলার নিখোঁজ। আর পাঁচটা ট্রলারের মত ওই ট্রলারও সমুদ্রে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল। কিন্তু ওই ট্রলারটির সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এমত অবস্থায় ট্রলারটিকে খুঁজে পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন শংকরপুর ফিশারমেন এন্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন। জানা যায় ওই ট্রলারে মাঝি সহ মোট ১৬ জন মৎস্যজীবী ছিল।
শঙ্করপুর থেকে সমুদ্রে মৎস্য শিকারে গিয়ে নিখোঁজ ১৫ জন মৎস্যজীবী। এছা়ড়াও রয়েছেন ট্রলারের চালক। চলতি মাসের ২ তারিখ শংকরপুর থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রা করেছিল ওই ট্রলারটি। ওই ট্রলারের নাম “মা কালী”। কিন্তু বুধবার থেকে ট্রলারটির সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং বর্তমানে ট্রলারটির অবস্থান অজ্ঞাত। ট্রলারটির সর্বশেষ GPS অবস্থান ছিল ১২/৩, যা জলধা ব্রিজের প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। নিখোঁজ মাছ ধরার ট্রলারটির সন্ধান এবং ট্রলারে থাকা সকল নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অবিলম্বে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করার জন্য আন্তরিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শংকরপুর ফিশারম্যান ফিশ ট্রেডাস অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক স্বদেশ রঞ্জন নায়ক সমস্ত জায়গায় বিষয়টি জানিয়েছেন। হেলিকপ্টার ও জনপথে খোঁজার আবেদন জানিয়েছেন মৎস্যজীবী সংগঠনের সদস্যরা। এ বিষয়ে তিনি জানান, “আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের রেজিস্ট্রেশন ভুক্ত মা কালী নামে একটি ট্রলার জুলাই মাসের ২ তারিখ মাছ ধরার জন্য সমুদ্র যাত্রা করেছিল। ওই ট্রলারে মাঝি এবং আরও ১৫ জন মৎস্যজীবী ছিল। ট্রলারটির সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ট্রলারটিকে খোঁজার বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদকে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।”
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানিয়েছেন, “ওই নিখোঁজ ট্রলার খুঁজে পেতে হেলিকপ্টার নিয়ে খোঁজ চালানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে উপকূল রক্ষী বাহিনীরাও সমুদ্রের নজরদারি চালাচ্ছে। মাছ শিকার থেকে ফিরে আসা ট্রলারের মৎস্যজীবীদের সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে কথা বলা হচ্ছে। ওই নিখোঁজ ট্রলার খুঁজে পেতে তল্লাশি জারি রয়েছে। প্রসঙ্গত জুলাই মাসের ৪ তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত সমুদ্রে নিম্নচাপের কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল। ওই সময় সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে আবহাওয়া দফতর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ফলে অন্যান্য ট্রলারের মৎস্যজীবীদের অনুমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল ছিল, সে সময়ই ট্রলারটি হয়ত পথ ভুল করে অন্য কোথাও চলে গিয়েছে। এই ট্রলার নিখোঁজের ঘটনায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে পরিবারের মানুষের মনে।