মীর আউট, প্রকাশ ইন, প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক বদলে শক্তি বাড়ল শুভঙ্কর লবির!
প্রতিদিন | ০৯ জুলাই ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনার পর প্রদেশ কংগ্রেসের (Congress) পর্যবেক্ষক পদে বদল আনল এআইসিসি। জম্মু ও কাশ্মীরের বিধায়ক গুলাম আহমেদ মীরের পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক পদে এলেন উত্তরাখণ্ডের প্রকাশ জোশী। বুধবার এআইসিসির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বিবৃতি জারি করে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন।
২০২২ সালে গুলাম আহমেদ মীরকে পর্যবেক্ষক করে বাংলায় পাঠায় এআইসিসি। উদ্দেশ্য ছিল ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত বাংলায় কংগ্রেসকে শক্তিশালী এবং প্রাসঙ্গিক করে তোলা। সেই উদ্দেশে মীরের পরামর্শেই জেলায় জেলা সংগঠন শক্তিশালী করার চেষ্টা শুরু করেন প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। জোট নির্ভরতা কাটিয়ে কংগ্রেসের একলা চলার নেপথ্যেও বড় ভূমিকা নিয়েছে ওই কাশ্মীরী নেতা। প্রদেশের দাবি, তাতে সুফল মিলেছে। রাজ্যে শূন্যের গেরো কেটেছে। কিছুটা ভোটও বেড়েছে। গোটা রাজ্যে অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে কংগ্রেস।
প্রদেশ নেতাদের একাংশের ধারণা, বাংলায় মীরের পারফরম্যান্সে খুশি হাইকম্যান্ড। সেকারণেই তাঁকে অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির পর্যবেক্ষক রূপে পাঠানো হল। মীরের যে প্রমোশন হতে পারে দিন কয়েক আগে কলকাতায় এসে সে ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন খোদ কে সি বেণুগোপালই। সেই মতো তাঁকে তামিলনাড়ুতে পাঠানো হল। সে রাজ্যে কংগ্রেস এখন থলপতি বিজয়ের টিভিকের সঙ্গে সরকারে। তাঁর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার পাশাপাশি অন্য ছোট দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে চলার মতো গুরুদায়িত্ব এখন মীরের কাঁধে।
তুলনায় লো প্রোফাইল প্রকাশ জোশীকে রাজ্যে পাঠানো হল। প্রকাশ উত্তরাখণ্ডের গাড়ওয়াল এলাকার নেতা। গত লোকসভায় কংগ্রেসের প্রার্থীও ছিলেন। যদিও পরাজিত হন। তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআইয়ের মাধ্যমে। পরে যুব কংগ্রেস করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বর্তমান প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন তিনি। শুভঙ্করের চেয়ে জুনিয়র ছিলেন প্রকাশ। বর্তমান প্রদেশ সভাপতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মসৃণ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে প্রদেশ কংগ্রেস অধীর লবি বনাম শুভঙ্কর লবির যে তথাকথিত দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায়, তাতে বাড়তি অ্যাডভান্টেজ পেতে চলেছেন শুভঙ্করের অনুগামীরাই।