রাত পোহালেই মুখ্যমন্ত্রীর মুর্শিদাবাদ সফর, রেজিনগরের প্রার্থী ঠিক হতে পারে
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ জুলাই ২০২৬
রাত পোহালেই শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মুর্শিদাবাদ সফর। তিনি কথা দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন। সেখানে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। একইসঙ্গে রেজিনগরে রাজনৈতিক জনসভা হতে পারে বলে খবর। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এই নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। সামনেই উপনির্বাচন হতে পারে রেজিনগরে। কারণ এই আসন থেকে জিতে তা ছেড়ে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। সেখানে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করবেন তিনি। যদিও এই আসনের উপনির্বাচনের তারিখ এখনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। এই কেন্দ্রে হুমায়ুনের পার্টির কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নিতে চায় বিজেপি। আর তাই পদ্ম শিবিরের প্রার্থী কে হচ্ছেন? সেটা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর সভার পরই বিজেপির টিকিট কে পাচ্ছেন সেটা পরিষ্কার হতে পারে।
এদিকে আগামী দু’মাসের মধ্যে রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হবে বলে সূত্রের খবর। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল। এই কারণে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন প্রায় রোজই রেজিনগরে সভা-সমাবেশ করছেন। কদিন আগে রেজিনগরে বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজনের একটি বক্তব্যের পালটা জবাব দিতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। যা নিয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তখনই তিনি মুর্শিদাবাদে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। শুক্রবার রেজিনগরের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী কোন রাজনৈতিক বার্তা দেন সেদিকে তাকিয়ে আছে জেলার মানুষজন এবং বিজেপির কর্মীরা।
অন্যদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর কেন্দ্রে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীর ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপির বাপন ঘোষ। তিনি ৬৪ হাজার ৬৬০টি ভোট পেয়েছিলেন। ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটে পিছিয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী। তৃণমূল কংগ্রেসের আতাউর রহমান ৪১ হাজার ৭১৮টি ভোট পেয়েছিলেন। রেজিনগরে ৭২ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। তারপরও বিজেপি এই আসন থেকে জিততে জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ভোট বৈতরণী পার করার জন্য বিজেপি কার উপর ভরসা রাখবে সেটা নিয়েই দলের অন্দরে চর্চা চলছে বলে সূত্রের খবর।
তাছাড়া বিজেপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা রেজিনগরের টিকিট পাওয়ার আশা করছেন। এখন ছন্নছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নিয়ে বিজেপির কোনও মাথাব্যথা নেই। কংগ্রেসও এখানে নিশ্চিহ্ন। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জিল্লু শেখ মাত্র চার হাজার ভোট পেয়েছিলেন। তবে বিজেপি ভালো ফলাফল করবে বলে অনেকে মনে করছেন। তাই শুভেন্দু অধিকারীর সভা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশাসনিক সভা থেকে নতুন প্রকল্প এবং কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।