TMC-তে কুণালই 'শকুনিমামা', অর্জুনের পর দিলীপের মুখেও একই কটাক্ষ
আজ তক | ০৯ জুলাই ২০২৬
বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারকে শেষ করে জায়গা পরিবর্তন করবেন কুণাল ঘোষ। সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'কুণাল ঘোষকে আমি আগেও শকুনি মামা বলেছি।' এবার সেই একই কথা শোনা গেল রাজ্যের আরেক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের গলাতেও। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ শকুনির অভিনয় করছেন বলে কটাক্ষ করেন দিলীপ।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বালিগঞ্জে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলে একাধিক অনুগামীকে ধরে মারধর করা হয় বলেই অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পুলিশ বিজেপির দলদাস হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, 'চিরদিন নাটক করে চালিয়েছেন। সবাইকে ধমকেছেন। তাই তো মানুষ আজ বিকল্প খুঁজে নিয়েছেন।'
বারুইপুরে এনকাউন্টার থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, একের পর এক প্রসঙ্গে এদিন মুখ খুলেছেন দিলীপ ঘোষ। এনকাউন্টার নিয়ে তাঁর বক্তব্য, 'বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন সকালে জমা, বিকেলে খরচ। এনকাউন্টার হয়েছে বাংলায় প্রথমবার। নকশাল আমলে, অতীতে হত। আমরা এনকাউন্টার করতে চাই না। কিন্তু বিহার, উত্তরপ্রদেশে এনকাউন্টার অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমজনতাকে শান্তি দিয়েছে। তখন এখানে তৃণমূল সরকার ছিল। যারা অন্য রাজ্যের এনকাউন্টারের বিরোধিতা চালিয়ে গিয়েছিল। তারা দুষ্কৃতীদের মাথায় তুলে রেখেছিল। তাই আজ বাংলার এই অবস্থা।' এরপরেই তিনি বলেন, 'এনকাউন্টার ঘিরে মায়ের থেকে মাসির দরদ বেশি। এরা বুদ্ধিজীবীর নামে সমাজবিরোধী। এদের নিজের ইমেজ আর নাম ছাড়া কিচ্ছু লাগে না। যখন অপরাধ হয়েছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন। আবার অপরাধী সাজা পেলে তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন। ডিম এই সব বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ভাঙুন। এদের বুঝিয়ে দিন। অপরাধী এবং অপরাধের পাশে দাঁড়ানো এইসব মানুষকে সমান ট্রিটমেন্ট দিন।'
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল প্রসঙ্গে দিলীপের বক্তব্য, 'গতকাল মাননীয়া একজনকে থাপ্পড় মারলেন। ওনার তার কেটে গেছে। এতদিন কয়েকটা তার কাটা ছিল। কাল দেখলাম সব তার কেটে গিয়েছে। ক্ষমতায় থেকে চোখ রাঙানো যায়। বিরোধী থেকে ধৈর্য ধরতে হয়। শুধু ড্রামা করলে হয় না। এতদিন ড্রামা করেছেন। আপনি লড়াই করুন। আমরাও তো লড়াই করেছি। আমাদের রাস্তায় আটকেছেন। গাড়ি ভেঙেছেন। খেলা হবে গান মাইকে বা ডিজে দিয়ে বাজিয়েছেন। সেগুলো ভুলে গেলে চলবে না। কাল আমাদের ছেলেরা একটু গান টান বাজিয়েছে। নাচ টাচ করেছে। জিতেছি আমরা একটু নাচব না? বাড়ির বিছানায় গিয়ে তো নাচিনি। যদি প্রয়োজন হয় সেটাও করব।'
এরপরেই কুণাল ঘোষকে নিয়ে মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, 'কুণাল ঘোষের ভাষণ যদি কেউ শোনেন, তাঁর ডায়লগের জন্য এই অবস্থা, শকুনির অভিনয় করছেন, শেষ করে দিয়েছেন কৌরব বংশকে।'