• দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, ১০ জুলাই থেকে খুলে যাচ্ছে হুগলির তিনটি জুট মিল, হাজারো শ্রমিক পরিবারে খুশির হাওয়া
    এই সময় | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পরে অবশেষে স্বস্তি। আগামী ১০ জুলাই উঠে যাচ্ছে চন্দননগরের গোন্দলপাড়া জুট মিল, শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া জুট মিল শ্রীরামপুরের হেস্টিংস জুট মিলের সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক। ফলে ফের খুলে যাচ্ছে মিল। হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারে এখন খুশির হাওয়া।

    ক্ষমতায় আসার আগেই বন্ধ জুটমিল খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। পালাবদলের পরে সেই নিয়েই বড় পদক্ষেপ করেছেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। হুগলির তিনটি জুটমিল-সহ রাজ্যের একাধিক জুটমিল খুলতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

    ছয় মাস আগে বন্ধ হয়ে যায় ইন্ডিয়া জুট মিল। বেকার হয়ে যান প্রায় দুই হাজার শ্রমিক বেকার। চরম আর্থিক সঙ্কটে দিন কাটছিল তাঁদের। একই অবস্থা গোন্দলপাড়া জুট মিলেরও। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ হারিয়েছিলেন প্রায় চার হাজার শ্রমিক। হেস্টিংস জুট মিলেও কাজ হারিয়েছিলেন প্রায় তিন হাজার জন।

    তবে মিল খোলার ঘোষণায় খুশি হলেও শ্রমিকদের একাংশ সারা বছর উৎপাদন চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপও চান তাঁরা। শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, অতীতে একাধিকবার মিল খুললেও কিছুদিনের মধ্যেই তা ফের বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাতে হয়েছে হাজার হাজার শ্রমিককে। নতুন করে যেন সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়।

    এ দিন শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও শ্রম দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাজ্য সরকার জুট শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। হুগলি জেলার চারটি জুট মিল খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বহু শ্রমিকের মুখে হাসি ফিরবে।’ মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শ্রমিক মহল্লাগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী।

    বছরভর মিল চালু রাখার নিশ্চয়তা দাবি করে গোন্দলপাড়া জুট মিলের সেলাই বিভাগের শ্রমিক প্রমোদ মণ্ডল বলেন, ‘বছরের পর বছর মিল বন্ধ-খোলার চক্র চলেছে। এবার নতুন সরকারের কাছে আশা, মিল যেন নিয়মিত চলে। তাহলেই আমাদের পরিবার বাঁচবে।’ মিল চালু হলে শ্রমিক যাতে কাজ পায়, তার নিশ্চয়তাও চেয়েছেন তিনি।

    উৎপাদন সচল রাখার দাবি জানিয়ে আর এক শ্রমিক অশোক চৌবে বলেন, ‘ভোটের আগে মিল বন্ধ হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে খুলবে। বাস্তবে কতটা উৎপাদন শুরু হবে, সেটাই দেখার।’ সরকার চাইলে আগের মতোই মিল সচল রাখা সম্ভব বলেও দাবি তাঁর।

    উৎপাদন নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি গোন্দলপাড়া জুট মিলের এক ম্যানেজার শুভেন্দু পাল। বর্তমানে মিলে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। তবে কবে থেকে উৎপাদন শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। তাঁর কথায়, ‘এখনও কোনও নতুন অর্ডার আসেনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)