• রামমন্দিরের প্রণামী চুরিতে ‘মাস্টারমাইন্ড’ অবিনাশ? তদন্তের রিপোর্টে বড় তথ্য দিল SIT
    এই সময় | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনায় তদন্ত করছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। চুরির ঘটনায় অবিনাশ শুক্লা নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪০ দিন ধরে অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওই অভিযুক্ত। এই ক’দিনের মধ্যে প্রায় ৭০ বার ডোনেশন কাউন্টিং সিস্টেম থেকে অর্থ সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

    মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ গণনার দায়িত্বে ছিলেন অবিনাশ শুক্লা। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার সময়ে লক্ষ্য করেছেন, অর্থ গণনার কাজ চলাকালীন অবিনাশ শুক্লা একাধিকবার দানের নগদ টাকার বান্ডিল ও খোলা নোট সরিয়ে ফেলছেন এবং লুকিয়ে রাখছেন। তদন্তকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন বলে দাবি। একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রমাণের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা অন্য পাঁচ অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে এবং মন্দিরের গণনা-কক্ষে সংঘটিত অপরাধের ধরণ বা কার্যপদ্ধতি পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন।

    গত ২৩ জুন উত্তরপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সঞ্জয় প্রসাদের কাছে তদন্তের অগ্রগতির একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিল সিট। সেই রিপোর্টেও অবিনাশ শুক্লাকেই অন্যতম অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁকে ঘিরেই পুরো অপরাধের কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয়েছে বলে মনে করছে বিশেষ তদন্তকারী দল।

    এই তদন্তের ক্ষেত্রে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মন্দিরের দান সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক লেনদেন ও ট্রাস্টের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। অবিনাশ ছাড়াও অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, করুণেশ পাণ্ডে নামে আরও তিন অভিযুক্তকে পাওয়া গিয়েছে। তাঁরাও অবিনাশের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    উল্লেখ্য, প্রতাপগড়ের মহেশগঞ্জ এলাকার বাবুপুর গ্রামে নিজের দাদার সঙ্গে থাকেন অবিনাশ। মন্দিরের ডোনেশন কাউন্টিং সিস্টেমে কাজ করার সময়ে মোট ২০ হাজার টাকা বেতন পেতেন এই অবিনাশ। এর পরেও অবিনাশের বিলাসবহুল জীবন ও ব্যাঙ্কের আর্থিক লেনদেন চোখ কপালে তুলেছে তদন্তকারীদের।

  • Link to this news (এই সময়)