সোদপুরের রাস্তায় রক্তাক্ত যুগল সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী, কোন আক্রোশে গীতাকে কুপিয়ে খুন করল সুভাষ?
News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রেমিক-প্রেমিকা নয়, বুধবার সকালে সোদপুরের রাস্তায় ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুগল সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী৷ বুধবার সকালের সোদপুরের ফিউচার গেট এলাকায় এক তরুণীর উপরে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এক যুবক৷ ছুরির আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সোদপুরেরই নাটাগড়ের মহেন্দ্রনগর এলাকার বাসিন্দা ৩৩ বছরের গীতা দাসের৷ তরুণীকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারার পর নিজেও ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত৷ গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷
প্রথমে পুলিশ মনে করেছিল, ওই যুগল হয়তো সম্পর্কে প্রেমিক-প্রেমিকা৷ কিন্তু পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবকের জবানবন্দি নেওয়ার পর জানা যায় তাঁরা আসলে সম্পর্কে স্বামী- স্ত্রী৷ অভিযুক্ত ওই যুবকের পরিচয়ও জানতে পেরেছে পুলিশ৷ জানা গিয়েছে, নিজের স্ত্রীর উপরে হামলাকারী ওই যুবকের নাম সুভাষচন্দ্র দাস (৪৫)৷ তার বাড়ি উত্তর চব্বিশ পরগণার বসিরহাটের হাড়োয়া এলাকায়৷
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, হাড়োয়ায় বাড়ি হলেও খড়দহ এলাকায় ৭৮/১ রুটের বাসচালক ছিল সুভাষ৷ সেই সূত্রেই এলাকার বাসিন্দা গীতার সঙ্গে পরিচয় হয় তার৷ বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করে গীতা ও সুভাষ৷ দু জনের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে৷
গীতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর উপরে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করত সুভাষ৷ স্বামীর বিরুদ্ধে ঘোলা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন গীতা৷ পুলিশ অভিযুক্ত সুভাষকে গ্রেফতারও করেছিল৷ তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করায় স্ত্রীর উপরে সুভাষের আক্রোশ তৈরি হয়৷ জেল থেকে ছাড়া পেয়ে স্ত্রীর উপরে অত্যাচারের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয় সুভাষ৷ গীতার পরিবারের সূত্রে খবর, মাঝেমধ্যে এসে স্ত্রীর সঙ্গে থাকলেও অধিকাংশ সময়ই বাড়ির বাইরেই থাকত সুভাষ৷
বুধবার সকাল ফিউচার গেট এলাকায় কাজে যান গীতা৷ অভিযোগ, তখনই কথা বলবে বলে গীতাকে ডেকে আনে সুভাষ৷ এর পরই রাস্তার উপরে আচমকা স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে কোপাতে শুরু করে সে৷ পথচলতি মানুষ বাধা দিতে গেলে তাঁদের উপরেও চড়াও হয় সুভাষ৷ শেষ পর্যন্ত নিজের পেটে আঘাত করে সে৷ রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার উপরেই লুটিয়ে পড়ে দম্পতি৷ খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যায়৷