গড়চুমুক থেকে আলিপুরে সরছে বাঘরোলের প্রজনন কেন্দ্র! লাভ না ক্ষতি? কী জানাচ্ছেন পরিবেশপ্রেমীরা
News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
: হাওড়ার গড়চুমুক মিনি জু থেকে রাজ্য প্রাণী বাঘরোল (মেছো বিড়াল)-এর প্রজনন কেন্দ্র আলিপুর চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলার পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের মতে, বাঘরোল সংরক্ষণের জন্য খাঁচাবদ্ধ বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশের চেয়ে প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি এবং তাদের স্বাভাবিক বাসস্থানকে বেছে নেওয়াই শ্রেয়।
পরিবেশকর্মীদের কথায় বাঘরোল মূলত ‘শিডিউল ১’ (Schedule I) শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী। পরিবেশে এদের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও বর্তমানে বিভিন্ন কারণে এদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এদের কৃতিম প্রজনন কেন্দ্র তৈরি করে সংখ্যা বৃদ্ধি করা উদ্যোগ আগেই নেওয়া হয়েছে। হাওড়া থেকে প্রজনন কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়ে যে কারণে সরব হয়েছেন পরিবেশকর্মীরা, তা হল বাঘরোলের প্রকৃত বাসস্থান হল হাওড়ার জলাভূমি অঞ্চল, নিচু জঙ্গল ও পুকুর—যেখানে মাছ ও ছোট প্রাণী খাদ্যের পর্যাপ্ত জোগান থাকবে। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘরোলের বিচরণ ক্ষেত্র প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার এবং তারা দিনে ৫-৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বিচরণ করে।
বাঘরোলের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধির জন্য এমন একটি সংরক্ষিত ও নিরিবিলি এলাকা প্রয়োজন, যেখানে তারা কোনও বাধা ছাড়াই স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পারবে। যেখানে নিশ্চিন্তে তারা প্রজনন ঘটাবে। কোনও চিড়িয়াখানার ছোট খাঁচায় তা সম্ভব নয়। পরিবেশপ্রেমীদের মতে, কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা অত্যন্ত কোলাহলপূর্ণ একটি স্থান, যা এই বন্যপ্রাণীটির প্রজনন ও স্বভাবের পক্ষে অনুকূল নাও হতে পারে। আলিপুরে কেন্দ্রটি স্থানান্তরিত না করে, হাওড়ার গড়চুমুকের বর্তমান কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রটিকে আরও আধুনিক ও উন্নত করে গড়ে তোলাই বেশি যুক্তিযুক্ত হতে পারে। কারণ, হাওড়ার জল-হাওয়া ও প্রকৃতিই বাঘরোলের বেঁচে থাকার আদর্শ স্থান।
পরিবেশপ্রেমি শুভজিৎ মাইতির কথায়, বাঘরোল সিডিউল ১ শ্রেণীর প্রাণী হওয়ায় এদের রক্ষা করা আমাদের পরম কর্তব্য। বনবিভাগ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পরিবেশপ্রেমীরা প্রতিনিয়ত এদের বাঁচাতে সচেতনতা প্রচার ও উদ্ধারের কাজ করে চলেছেন। এদের বংশবৃদ্ধির জন্য চিড়িয়াখানার ছোট খাঁচার চেয়ে এমন একটি আদর্শ প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার, যেখানে কোনও বাধা ছাড়াই এরা স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারবে।
পরিবেশপ্রেমী চিত্রক প্রামাণিক জানান, হাওড়া জেলাই হল আমাদের রাজ্য প্রাণীর মূল আবাসস্থল। গড়চুমুকের পরিবর্তে কলকাতার মতো কোলাহলযুক্ত স্থানের চিড়িয়াখানায় প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভাবা দরকার। তার চেয়ে গড়চুমুক মিনি জু-এর প্রজনন কেন্দ্রটিকে আরও উন্নত করে হাওড়ার বুকেই এদের সংরক্ষণ করা উচিত ছিল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বাঘরোলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকার ও বন দফতরের উচিত তাদের প্রকৃত বাসস্থানকে চিহ্নিত করে, প্রকৃতির মাঝে একটি নিরিবিলি ও আদর্শ প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা।