• 'বারুইপুরে যা হয়েছে, সেটাই হওয়া উচিত', এনকাউন্টারে সমর্থন জিরাটের নির্যাতিতার বাবার
    News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • বারুইপুরের মতোই, অপহরণ করে ধর্ষণ খুন করে করা হয়েছিল জিরাটের নাবালিকা ছাত্রীকে। এনকাউন্টার সঠিক বলছেন সেই ছাত্রীর বাবা। ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর। শীতের সন্ধায় প্রাইভেট পরে বাড়ি ফিরছিল বছর তেরোর ছাত্রী। হুগলির জিরাট স্মৃতি মন্দির পাড়ায় গৃহ শিক্ষিকার কাছে পড়তে গিয়েছিল ত্রিবেণী টিস্যু বিদ্যাপীঠের ওই ছাত্রী। অন্যদিন যেমন যেতো।

    ঠিক আর বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় প্রতিদিনের মতো বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছিল সে বাড়ি ফিরছে। সেইমতো তার বাবা রাস্তায় গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু মেয়ে বাড়ি ফেরেনি। তাকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে হাটতলার একটি বাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চলে নির্মম অত্যাচার। গণধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে গভীর রাতে বস্তাবন্দির করে ফেলে দেয় ইটভাটার পিছনের খালে।

    বস্তায় ভরার সময় ছাত্রী পা ভেঙে দেওয়া হয় কোদাল দিয়ে।মৃত্যুর পরও ধর্ষণ করা হয়। পরিবারের কাছে মুক্তিপন দাবী করা হয় ফোন করে। ছাত্রীর পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা ধন্য ধন্য করে খুঁজে তার সন্ধান পায়নি। বলাগড় থানার পুলিশ তদন্তে নেমে ইটভাটার সিসিটিভি ফুটে খতিয়ে দেখে।যেখান থেকে অপহরন করা হয়েছিল সেখানে জুতো পাওয়া যায়। ওই এলাকা থেকে ছাত্রীর সাইকেল উদ্ধার হয়।খাল থেকে উদ্ধার হয় বস্তাবন্দি দেহ।

    সেই ঘটনায় চুঁচুড়ার নিম্ন আদালত বিরল থেকে বিরলতম ঘটনার জন্য দুই অভিযুক্ত গৌরব মন্ডল ও কৌশিক মালিক কে ফাঁসির সাজা সোনায়। আরেক অভিযুক্ত নাবালক থাকায় জুভেনাইল আদালতে তার বিচার হয়। পরে সে ছাড়া পায়। ফাঁসির সাজা প্রাপ্ত আসামীরা হাইকোর্টে আবেদন করলে এখানে তাদের ফাঁসি সাজা রথ হয়ে আজীবন কারাবাসের নির্দেশ আদালত।

    বিরাটের সেই ছাত্রীর বাবা( চিন্ময় মন্ডল) বলেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনা হয়েছিল বারুইপুরের ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনা দেখলাম। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুই একমাত্র শাস্তি। রাজ্য সরকার মুখ্যমন্ত্রী যেটা করেছেন বারুইপুরের ঘটনা এনকাউন্টার এটা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত। এই ধরনের অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে গেলে সমাজের ক্ষতি।ছোট নাবালিকাদের উপর যে অত্যাচার করবে তার শাস্তি এই হওয়া উচিত।”

    ছাত্রীর প্রতিবেশী থেকে গ্রামবাসী যারা রয়েছেন সে সময় দোষীদের শাস্তি যে পথে নেমে ছিলেন মিছিল করেছিলেন।তাঁরাও বলছেন বারুইপুরে এই জঘন্য অপরাধের শাস্তি মৃত্যুই হওয়া উচিত। কয়েকজনের মত শুধু এনকাউন্টার করে এই অপরাধ থামানো যাবে না। সরকারের আরও কড়া আইন আনা উচিত। এই ধরনের অপরাধ যারা করে তারা বিকৃত মানসিকতার হয়।
  • Link to this news (News18 বাংলা)