কলকাতার স্কুলে মিড ডে মিল দেবে ইসকন! হাই কোর্টে কী জানাল রাজ্য?
প্রতিদিন | ০৮ জুলাই ২০২৬
কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল সরবরাহ করবে ইসকন। সম্প্রতি এমনটাই জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু বিষয়টি এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে বলে কলকাতা হাই কোর্টে জানালেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র। মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পরেই কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আজ, বুধবার হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানেই রাজ্যের তরফে এমনটা জানানো হয়। যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির।
গত ২২ জুন বিধানসভায় বিজেপি সরকার তাদের প্রথম বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এরপরেই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ”শ্যামাপ্রসাদের দেখানো পথেই বাংলা চলবে। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনায় বাংলা চলবে। রামকৃষ্ণ মিশন, গৌড়ীয় মঠ, ভারত সেবাশ্রম, ইসকনের দেখানো পথে পশ্চিমবঙ্গ চলবে। এই সংস্কৃতির থেকে বিচ্যুতি ঘটবে না। আমরা ইসকনকেই মিড ডে মিল খাবার সরবরাহ করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছি। পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে পুরো কলকাতাকেই দেওয়া হচ্ছে। ইসকন খাওয়াবে। আপত্তি থাকলে হরে কৃষ্ণ বলবেন না। কেউ আপনাদের জোর করবে না। ভালো খাবার পাবেন। শুদ্ধ খাবার পাবেন। চিন্তার কোনও কারণ নেই।” সরকারের এহেন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিতর্ক। শুধু তাই নয়, কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলাও।
মামলা করেন আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আবেদন জানান, ইসকন এই দায়িত্ব নিলে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল রান্না ও পরিবেশনের দায়িত্বে থাকা বহু মহিলা চাকরি হারাবেন। এমনকী কেন মিড ডে মিলে ডিম থাকবে না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামলকারী আইনজীবী। এদিন এই মামলার শুনানিতে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, ”বিষয়টি এখনও পর্যন্ত প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি ৷ ফলে এখনই এই মামলার প্রয়োজন নেই।” এরপরেই মামলাকারী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে রাজ্য যাতে হলফনামা জমা দেয়, সেই আবেদন রাখেন আদালতের সামনে। শুনানিতে আইনজীবী বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রী এই কথা বিধানসভায় বলেননি তা রাজ্য হলফনামা দিয়ে জানাক।” তাঁর কথায়, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বহু মহিলা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বিষয়টি। এরপরেই রাজ্যকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে ৬ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।