• 'মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা...' এনকাউন্টার শুনে যা বললেন নির্যাতিত নাবালিকার বাবা
    আজ তক | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • 'বাবা-মা যেভাবে চাইবে, সেভাবেই ন্যায়বিচার দেব, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে।' বারুইপুরে খুন-ধর্ষণের ঘটনা প্রসঙ্গে এভাবেই ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে নিজে গিয়ে নাবালিকার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বেরিয়ে এসে বলেন, 'সকালে ধরব, রাতে খরচ করব।' এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এনকাউন্টারে খতম এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। এ প্রসঙ্গে কী প্রতিক্রিয়া দিলেন নির্যাতিতার বাবা? 

    নাবালিকার বাবা বলেন, 'সরকারের উপর সম্পূর্ণ আস্থা ভরসা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কথা দিয়েছেন, যেভাবে কাজ চলছে, আমরা খুব খুশি। ওঁর উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। পুলিশ না থাকলে আমরা এতদূর এগোতে পারতাম না। আরও যারা আছে তারাও গ্রেফতার হবে। তাদেরও শাস্তি হবে।'

    শুভেন্দু অধিকারীকে বড় দাদা হিসেবে মানছে নির্যাতিতার পরিবার। বাবা বলেন, 'আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে দাদা বলে সম্বোধন করি। ওঁর উপর বিশ্বাস আছে। দাদা কঠোর সাজা দিয়েছেন। দাদা বলেছিলেন, শুধু আমার কাজ দেখে যাও। আর সত্যিই দাদার উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা খুব খুশি।'

     নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার রাতে তাকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অপরাধস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই সে পুলিশের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। পালানোর সময়ে পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশি এনকাউন্টার উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের অনুকরণ বলেই মনে করছেন অধিকাংশ। 

    প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবরে খুশি BJP বিধায়ক তথা আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন, 'পুলিশ ভাল কাজ করেছে। একজন ধর্ষক শেষ হয়েছে।'  তাঁর কথায়, 'এখানে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে আমরা যেমন এখনও বিচার পাইনি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পুলিশের বন্দুক নিয়ে তাদের দিকেই তাক করেছিল, তাই গুলি চালিয়েছে পুলিশ। আমি মনে করি, পুলিশ ভাল করেছে। একজন ধর্ষক শেষ হয়েছে। এভাবে যদি পদক্ষেপ করা হয়, তাহলে হয়তো বাচ্চা মেয়েদের বাঁচানো যাবে আগামিদিনে।'

    অন্যদিকে এনকাউন্টারে নিহত প্রভাসের মা-ও ছেলের দেহ নিতে রাজি হননি। তিনি বলছেন, 'আমি ওর দেহ দেখতে চাই না। দেখে কী করব! আমার যাওয়ার শক্তি নেই। গলা শুকিয়ে আসছে। পুলিশকে বলেছি, তোমরা যা খুশি করো। ছেলের মৃত্যু হলে মায়ের তো কষ্ট হবেই। কিন্তু ও যা কর্ম করেছে, তাতেই ওর মৃত্যু হয়েছে, আমার শান্তি।'

    ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল (মমতাপন্থী) সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এক্স-এ লিখেছেন, 'বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের মামলার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে নিহত! পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, রাজ্যে কী চলছে? বাঙালিরা দয়া করে নতুন বাংলাকে স্বাগত জানান, উত্তরপ্রদেশ ২.০। বিজেপি সরকারে নেই, কিন্তু এটা জঙ্গলরাজ।'

     
  • Link to this news (আজ তক)