বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় যে ভাবে তদন্ত এগিয়েছে, তাতে নির্যাতিতার পরিবার সন্তুষ্ট বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বারুইপুরে পুলিশ সুপারের অফিসে নির্যাতিতার পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথা বলার পরেই এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ধর্ষণ-খুনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সময়ে যে ভাবে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে অভিযোগ, তারও নিন্দা করেছেন শুভেন্দু। গণপিটুনিতে নিহতও নির্দোষ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারের অফিসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। সূত্রের খবর, ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্ত কত দূর এগিয়েছে, প্রশাসনের তরফে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত, সে ব্যাপারে নির্যাতিতার পরিবারকে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরে বারুইপুরে গণপিটুনিকে নিহতের পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরে বাইরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নির্যাতিতার পরিবারকে জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, তারা সন্তুষ্ট। গণপিটুনিতে যে যুবক নিহত হয়েছেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছি। ওই যুবক নির্দোষ।’
শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পরে রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে পুকুর থেকে নির্যাতিতা কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। তার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এই বিক্ষোভের মাঝেই ইন্দ্রনাথ তাঁতি নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিক্ষোভে যাঁরা উস্কানি দিয়েছেন, তাঁরা আদতে দেশদ্রোহী। তাঁদের অনেকেই বিরোধী দলের লোক বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। বলেছেন, ‘পিছন থেকে যারা উস্কানি দিয়েছে, তাদের কেউ কিছু দিন আগে ক্ষমতা থেকে সরে গিয়েছে, কেউ আবার শূন্য থেকে এক হয়েছে। এরা অ্যান্টিন্যাশনাল ফোর্স। সকলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রত্যেকের নাম খুনের মামলায় জুড়বে। পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি, যারা হুলিগ্যানিজ়ম করেছে, সকলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে। যারা উস্কানি দিয়েছে, কাউকে ছাড়া হবে না।’
এই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না হয়, পুলিশকে তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বারুইপুর কাণ্ডে (ধর্ষণ-খুন এবং গণপিটুনির ঘটনা) এখনও পর্যন্ত যা যা প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে ডিজির কাছে। শুভেন্দু বলেন, ‘২ সপ্তাহ পরে আবার আসব। দুই পরিবারের সঙ্গে আবার দেখা করব। যেখানে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা ঘটেছে, তার কাছে পুলিশ আউটপোস্ট তৈরি হবে। পুলিশ যা করার করছে। এসপি-আইজির সঙ্গে কথা বলেছি। সরকার যা করবে, আপনারা জানতে পারবেন।’ বারুইপুরে বিক্ষোভের সময়ে তিন পুলিশকর্মী জখম হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁরা বাইপাশের ধারে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদেরও দেখতে যাবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
নাবালিকা খুন এবং ধর্ষণ মামলায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তিন জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ধৃতদের নাম প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার ও আনন্দ সর্দার। আরও এক অভিযুক্তের নাম তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও তার এখনও নাগাল পাওয়া যায়নি বলেই খবর পুলিশ সূত্রে। প্রসঙ্গত, নাবালিকার খোঁজ না মেলায় প্রথমে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রভাসকে আটক করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রবিবার সকালে পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। এর পরে তদন্তে নেমে দিবাকর এবং পরে আনন্দকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, ধৃত প্রভাস প্রাথমিক জেরায় দিবাকর, আনন্দ ছাড়াও আরও দু’জনের নাম করেছিলেন। এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনা যে পূর্ব পরিকল্পিত, তা এক প্রকার নিশ্চিত পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, পরিকল্পনামাফিক ধৃত প্রভাস নাবালিকাকে কোনও ভাবে ভুলিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এর পরে চার অভিযুক্তের কাছে নাবালিকাকে তুলে দেন তিনি।