তদন্তে সহযোগিতা করছেন না অভিষেক, কণ্ঠস্বর মামলায় হাই কোর্টে নালিশ রাজ্যের
প্রতিদিন | ০৭ জুলাই ২০২৬
কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ মামলায় দ্রুত শুনানি চেয়ে ফের কলকাতা হাই কোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই সংক্রান্ত আবেদন জানান। যদিও পালটা রাজ্যের তরফে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এরপরেও কণ্ঠস্বর পরীক্ষা দিতে তিনি আসছেন না। এরপরেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের কড়া পর্যবেক্ষণ, মামলাকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ রয়েছে। কেন তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না? কণ্ঠস্বর নমুনা দিক তদন্তকারীদের। আগামী শুক্রবার ফের মামলার শুনানি।
আগামী ৮ জুলাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার কথা। তার আগেই আজ, মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। শুনানিতে বিচারপতির প্রশ্ন, আপনি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) তো রক্ষাকবচ পেয়েছেন।
এরপরেও কেন তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। এই প্রসঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের আইনজীবী জানান, ওই কণ্ঠস্বর যে তাঁর, তা ইতিমধ্যে স্বীকার করেছেন অভিষেক। এরপরেও কেন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে? পালটা রাজ্য জানান, আমরা মামলাকারীর কথাতেই বিশ্বাস করতে পারি না এটা কার কণ্ঠ। ম্যাজিস্ট্রেট যেতে বলার পরেও মামলা করা হচ্ছে। এমনকী আদালতের রক্ষাকবচ দেওয়া হলে তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করা উচিৎ। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না বলে আদালতে নালিশ রাজ্যের আইনজীবীর।
বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ‘ডিজে বাজানো’ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একবার নয়, একাধিকবার প্রচারে গিয়ে এহেন মন্তব্য করেন। ভোট মিটতেই এহেন মন্তব্যের জেরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়। উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিধাননগর থানায় এই সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়। বর্তমানে যদিও এই মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে। ইতিমধ্যে এই মামলায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে কয়েকঘন্টা জেরাও করা হয়। তবে এবার তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা পেতে চান রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। এরপরেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। তাঁর দাবি ছিল, ওই বক্তব্য যে তাঁর, তা জানিয়েছেন। এরপরেই কেন কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার প্রয়োজন? এই বিষয়ে হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা করেন।