তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্ট নিয়ে দিনে দিনে বিতর্ক বেড়েই চলছে। মঙ্গলবার একাধিক ব্যবসায়ী ও ট্রাভেল এজেন্সি অফিস ও বাড়িচে চলছে তল্লাশি। এই ব্যবসায়ী ও ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক তহবিলের টাকা কোনরকম লেনদেন হয়েছিল কিনা সেই তথ্য যাচাই এর জন্যই এই তল্লাশি অভিযান বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে নেতাদের একাধিকবার বিদেশ ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার টিকিট বুকিং করার তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। কারা কারা এই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে কোথায় কোথায় য়াওয়ার টিকিট কেটেছিলেন, কী কারণে সেখানে গিয়েছিলেন, আর্থিক লেনদেনের সমস্ত বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ইডি সূত্রে খবর, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিতর্ক প্রকাশ্যে আসার পর বিগত ১৫ দিন ধরে প্রথামিক অনুসন্ধান চালিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কত টাকা লেনদেন, কীভাবে লেনদেন, কোথায় কোথায় লেনদেন, সেই সম্পর্ক অনুসন্ধান চালিয়েছিল ইডি এমনটাই সূত্রের খবর। গতকাল রাতে এনিয়ে দিল্লিতে বৈঠক হয়। আর বৈঠকের পরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইসিআইআর করে। বিধান নগর সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হওয়া এফআই আর ধরেই ইডিইসিআইআর করে। দু'দিন আগেই ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং সন্দীপন সাহা এই মামলায় বিধান নগর সাইবার ক্রাইম থানায় বেশ কিছু নথি জমা দিয়েছিলেন, সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তৃণমূলে ভাঙনের পর দলের তহবিল কার হাতে থাকবে তা নিয়ে চরম সংঘাত। দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস।
এরপরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রত শিবির। সেই আবেদনের ভিত্তিতে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার যাতে কোনও রকম লেনদেন না হয় তার জন্য ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেয় পুলিশ।
পরে ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল। গত বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট আপাতত ফ্রিজ থাকবে বলে জানিয়ে দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষ ও পুলিশের থেকে রিপোর্ট তলব করে উচ্চ আদালত। আগামী বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) আবারও এই মামলার শুনানি রয়েছে।