বৌদ্ধ ধর্মগুরু দলাই লামা তেনজিং গ্যাতসোকে ৯১তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে বিশ্বকল্যাণের প্রতি তাঁর নিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন তিনি। এই শুভেচ্ছাবার্তার দিকে নজর রয়েছে চিনেরও। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এই বার্তায় দলাই লামাকে শুভেচ্ছার সমান্তরালে চিনকে কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে রাখলেন মোদি। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিন এক্স হ্যান্ডলে মোদি লিখেছেন, ‘দলাই লামাকে জন্মদিনের উষ্ণ শুভেচ্ছা। তাঁর শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বিশ্বজুড়ে মানুষের জন্য এক পথপ্রদর্শক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি এবং বিশ্বকল্যাণের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করছি।’
মোদির এই বার্তাকে নিছক শুভেচ্ছাবার্তা হিসেবে দেখছে না ওয়াকিবহাল মহল। এর নেপথ্যে রয়েছে কূটনৈতিক কৌশল, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। মাথায় রাখতে হবে, গত ২ জুলাই নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন বৌদ্ধ ভিক্ষু ৫২ বছর বয়সি এক তিব্বতি মানবাধিকার কর্মী। তিব্বতে চিনের দমনমূলক নীতির প্রতিবাদে তাঁর এই আত্মহনন। এই পরিস্থিতিতে নিশ্চিত ভাবে চিনের উপরে চাপ বেড়েছে। এমতাবস্থায় মোদি এই শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়ে দলাই লামা তথা তিব্বতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি তাঁর আস্থার কথা আরও একবার পরিষ্কার করে দিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে চিনা হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে তিব্বত থেকে দলবল সমেত পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বর্তমান দলাই লামা। তারপর থেকেই তাঁকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে মনে করে বেজিং। দলাই লামা বহুবার ভারতের সাহায্য নিয়ে চিনের হাত থেকে তিব্বতকে স্বাধীন করার চেষ্টা করেছেন। সেই নেহরুর আমল থেকেই তাঁকে নিয়ে ভারতের সঙ্গে চিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলেছে। বেজিং জানিয়ে দিয়েছে, দলাই লামার উত্তরসূরি বাছাইয়ে কোনও বাহ্যিক হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। কারণ, এটি সম্পূর্ণরূপে চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এদিকে নয়াদিল্লিও বারবার পরিষ্কার করে দিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নিক গাহদেন ফোড্রাং ট্রাস্ট। এই প্রক্রিয়ায় বাইরের কাউকেই হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। এই টানাপোড়েনের মাঝেই মোদির এই শুভেচ্ছা চিনকে পরোক্ষ বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।