বিয়ের দু’মাসের মাথায় ছাদ থেকে পড়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে দিল্লির লোধি কলোনীর বাসিন্দা ২৮ বছরের আকৃতি সুতারের। ওই ঘটনায় পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ উঠল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। পণ সংক্রান্ত অত্যাচারের নতুন মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত স্বামীকে অরুস্তু সিক্কাকে।
গতকাল পুলিশ জানিয়েছিল, পুষ্প বিহার আবাসনে থাকতেন আকৃতি। শনিবার, ৪ জুলাই পাল্কি কুঞ্জের এনসিডএমসি ফ্ল্যাট থেকে পড়ে যান তিনি। আকৃতিকে উদ্ধার করে এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যদিও চিকিৎসকরা জানান, ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল বিয়ে হয়েছিল আকৃতির। তিনি ছত্তরপুরে একটি সংস্থায় সেলস এক্সকিউটিভ পদে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিনও কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। শ্বশুরবাড়িতে ফেরার পর বিপদ ঘটে।
শুরু থেকেই আকৃতির বাপের বাড়ির লোকেরা দাবি করছেন, দৃঢ়চেতা আকৃতি আত্মহত্যা করতে পারেন না। স্বামী আরুস্তু সিক্কা ও শ্বশুরবাড়ির অন্যেরা মিলে তাঁকে খুন করেছে। সোমবার আকৃতির মা পুলিশকে জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে চাকরি ছেড়ে সন্তান নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল স্বামী এবং ননদ। পাশাপাশি পণের দাবিতেও তাঁর উপর অত্য়াচার চলে। যদিও বিয়ের আগেই আকৃতি জানিয়েছিলেন যে তিনি চাকরি ছাড়বেন না। তখন রাজি হলেও বিয়ের পরে বদলে যায় আরুস্তুর মতিগতি। আকৃতি চাকরি না ছাড়ায় তার উপর মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার চলে বলে অভিযোগ করেছেন মৃতার মা। তিনি জানান, পণের জন্য বেল্ট দিয়ে মারা হত আকৃতিকে।
এমনকী মায়ের দাবি, স্বামী তাঁকে খুন করতে পারে, একথাও জানিয়েছিলেন মেয়ে। মৃতার কাকা দাবি করেছেন, বিয়েতে ৭-৮ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল তাঁদের। যদিও ২০ লক্ষ টাকা পণ চেয়েছিল অরুস্তুর পরিবার। এইসঙ্গে ফের আকৃতির মা দাবি করেছেন, দৃঢ়চেতা আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাঁকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে আকৃতির স্বামী অরুস্তুকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।