আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মতিথি উপলক্ষে এবার এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের আমলে এই প্রথমবার পালিত হল দলের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষের জন্মজয়ন্তী। ফলে ছ’নম্বর মুরলিধর লেনের রাজ্য বিজেপি সদর দপ্তর থেকে শুরু করে গোটা রাজ্যের প্রতিটি কোণায় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব আবেগ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে এই বিশেষ দিনটিকে এক বর্ণময় রাষ্ট্রীয় উৎসবে পরিণত করা হয়েছে, যা আগামী এক বছর ধরে উদযাপিত হবে।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে বর্তমানে বিদেশ সফরে থাকলেও এই ঐতিহাসিক উদযাপনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে দীর্ঘ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ পশ্চিমবঙ্গের মাটি তার এক মহান সন্তান তথা অনন্য দেশভক্তের ভাবনা ও দর্শনকে চারিদিকে পল্লবিত ও পুষ্পিত হতে দেখছে। যেখানে মাটির সঙ্গে যুক্ত দর্শনের শক্তি ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকে, আর নতুন সংকল্পের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমর্পণ যুক্ত হয়—সেখানে সংকল্প থেকে সিদ্ধি নিশ্চিত। ডক্টর মুখোপাধ্যায়ের জীবন ছিল ঠিক তেমনই।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীকে আগামী বছরের ৬ জুলাই পর্যন্ত দু’বছর ব্যাপী 'রাষ্ট্রীয় উৎসব' হিসেবে পালন করা হচ্ছে। তবে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর রাজ্যের মানুষ এই উৎসবে এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। গত ২০ জুন রাজ্যজুড়ে মহাসমারোহে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' পালন করার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে বাংলার মাটি ও ঐতিহ্যকে প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব হয়েছে।
তৎকালীন সময়ের কথা স্মরণ করে মোদি বলেন, “যে সময় কংগ্রেসের একাধিপত্য ছিল এবং ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের জন্য কোনও স্থান ছিল না, সেই কঠিন পরিস্থিতিতে ডক্টর মুখার্জী নতুন চিন্তাধারার সূচনা করেছিলেন। এটি কেবল একটি সংগঠন গড়ে তোলা ছিল না, বরং ভারতীয় জনসঙ্ঘের জন্ম হয়েছিল এক সুগভীর বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। আজ তিল তিল করে লক্ষ লক্ষ কর্মীর ত্যাগের বিনিময়ে সেই জনসঙ্ঘই ভারতীয় জনতা পার্টির রূপ নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।”
সংসদে ডক্টর মুখোপাধ্যায়ের দেওয়া ঐতিহাসিক বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন রাষ্ট্রীয় একতার ওপর ভিত্তি করেই দেশের সোনালী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় যখন সমগ্র বাংলাকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্ত চলছিল, তখন ডক্টর মুখোপাধ্যায় পর্বত প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি তীব্র হুংকার দিয়ে বলেছিলেন—'কংগ্রেস দেশ ভাগ করেছে, আমি পাকিস্তানকে ভাগ করেছি।' তাঁর এই প্রবল রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির কারণেই আজ পশ্চিমবঙ্গ ভারতের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
এক দেশ, এক সংবিধান এবং এক জাতীয় চেতনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জম্মু-কাশ্মীরে ডক্টর মুখোপাধ্যায়ের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ব্যক্ত করেন যে, আজ ডক্টর মুখোপাধ্যায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এবং সারা দেশে সম্পূর্ণ মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে ভারতের একটিই সংবিধান কার্যকর রয়েছে। পরিশেষে, মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে শিক্ষার আঙিনায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডক্টর মুখার্জী শিক্ষাকে দাস মানসিকতা থেকে মুক্ত করে মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রসার ও বঙ্গজাতির আত্মসম্মান পুনরুদ্ধারের যে ডাক দিয়েছিলেন, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।