• নির্যাতিতার পর বারুইপুরে একই জায়গায় ফের দেহ উদ্ধার!
    আজকাল | ০৭ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন গোটা রাজ্য উত্তাল, ঠিক সেই সময়েই সামনে এল আরও এক রহস্যজনক ঘটনা। সূর্যপুর এলাকার যে পুকুর থেকে রবিবার সকালে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছিল, স্থানীয়দের দাবি, সেই একই পুকুর থেকেই সোমবার উদ্ধার হয়েছে আরও একটি পচাগলা দেহ। দেহটির এখনও পর্যন্ত কোনও পরিচয় জানা যায়নি। ফলে বারুইপুরের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মৃতদেহটির সঙ্গে নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার কোনও যোগসূত্র এখনও পর্যন্ত তদন্তে সামনে আসেনি। তবুও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বারুইপুর থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। 

    প্রাথমিকভাবে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা না গেলেও, পরে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম কৃষ্ণকান্ত হালদার। গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুকুরে সার্চ অপারেশন চালাচ্ছিলেন পুলিশ কর্মীরা। সেই সময় এই মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ নিয়ে আসে। ইতিমধ্যেই তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃতদেহ সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে একাধিক বিষয়ে, সূত্রের তথ্য তেমনটাই। 

    এদিকে, ১২ বছরের নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে কোনওরকম ঢিলেমি দেখাতে নারাজ পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। জেলার অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত এই সিট ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের গতিবিধি, ঘটনাস্থলের তথ্যপ্রমাণ, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান—সবকিছুই খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।

     বারুইপুরের ঘটনায় তৎপর প্রশাসন। ২৪ ঘণ্টার মাথায় গ্রেপ্তার তিনজন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের হুঁশিয়ারি দিলেন সোমবার। সাফ জানালেন, রেয়াত নয় কাউকেই। সূত্রের খবর, মঙ্গলবারেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে বারুইপুর যেতে পারেন। কথা বলতে পারেন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে।

    সোমবার, বারুইপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাবা বিচার চেয়েছেন। জঘন্যতম ঘটনা। সিট গঠন হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আইজি'র নেতৃত্বে, পুলিশ-সটিএফ কাজ করছেন। পরিবার পুলিশের কাছ থেকে যা যা সহযোগিতা চেয়েছেন সেই কাজ সরকার করছে। আমি আশা করি তদন্তের মাঝপথে আমার না বলাই ভাল। কিন্তু এটুকু আমি বলতে চাই, পরিবার যেভাবে বিচার চেয়েছে, সরকার এবং পুলিশের কাছে যে যে সহযোগিতা চেয়েছে, তা তারা পাবে। মোট ৪ টি মামলা হযেছে। ১ টি জঘন্যতম অপরাধের জন্য ছাড়া আরও ৩ টি মামলা হয়েছে।'

     
  • Link to this news (আজকাল)