দু’বছর পর ফের চালু ভারত-বাংলাদেশ পর্যটক ভিসা, খুশির হাওয়া পেট্রাপোল সীমান্তের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটক(ট্যুরিস্ট) ভিসা প্রদান শুরু করেছে ভারত। গত ২৮ জুন থেকে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে পর্যটক ভিসার আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
যদিও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে এখনও কয়েকদিন সময় লাগবে। এরপরই পর্যটকরা ভিসা হাতে পেয়ে ভারতে আসতে পারবেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পর্যটক ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা করেন। ভারত ও বাংলাদেশের এই যৌথ উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি আশার আলো দেখছেন উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, পর্যটক যাতায়াত স্বাভাবিক হলে সীমান্ত ঘিরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসা আবারও চাঙ্গা হবে।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনায় ‘Under Process’ স্ট্যাটাস…? এসে গেল বড় আপডেট, ১০ জুলাইয়ের মধ্যেই পোর্টালে আপলোড হবে ‘এঁদের’ নাম!
পর্যটক ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে গত দু’বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পরিবহণ ব্যবসা। বনগাঁ ও কলকাতা থেকে বাংলাদেশগামী একাধিক বাস পরিষেবা কার্যত যাত্রী সংকটে পড়ে। বহু বাস মালিক, চালক, কর্মচারী এবং পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
নতুন করে ভিসা চালু হওয়ায় তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একইভাবে পেট্রাপোল থেকে বনগাঁ রেলস্টেশন পর্যন্ত চলাচলকারী অটোচালকরাও আশাবাদী। এতদিন বাংলাদেশি যাত্রী না থাকায় আয় অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এখন আবার যাত্রী বাড়বে বলেই আশা করছেন তাঁরা। শুধু পরিবহণ নয়, সীমান্ত এলাকার মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ছোট-বড় দোকান এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রের ব্যবসায়ীরাও এই সিদ্ধান্তে খুশি। তাঁদের আশা, পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে সীমান্তের অর্থনৈতি আবারও গতি পাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ এবং একাধিক ভিসা আবেদন কেন্দ্র ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পরিস্থিতির জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত পর্যটক ভিসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে প্রবেশের অনুমতি পেলেও, পর্যটক ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর পর্যটকদের যাতায়াত স্বাভাবিক হলে পেট্রাপোল সীমান্তের দীর্ঘদিনের নিস্তব্ধতা কাটিয়ে আবারও ফিরে আসবে আগের ব্যস্ততার চেনা ছন্দে।