• টোটো চলাচলের নিয়মে বদল আসতেই নয়া কাণ্ড নদিয়ায়! পুলিশের কড়া নজরদারি নিয়ে কী বলছেন চালকরা?
    News18 বাংলা | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • : জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল শান্তিপুর থানা এবং শান্তিপুর ট্রাফিক গার্ড। সম্প্রতি শান্তিপুর থানা এলাকার অন্তর্গত বিভিন্ন রুটের টোটো (ই-রিকশা) চালকদের নিয়ে একটি জরুরি সতর্কীকরণ ও সচেতনতা সভার আয়োজন করা হয়। এই বৈঠকে জাতীয় সড়কে টোটো চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং সড়ক সুরক্ষার বিভিন্ন নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

    পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে শান্তিপুর, ফুলিয়া, মুরালিয়া, বেলডাঙ্গা, গোবিন্দপুর, পাঁচপোতা, বাগডিয়া এবং শান্তিপুর স্টেশন সংলগ্ন বিভিন্ন স্ট্যান্ডের কয়েক শতাধিক টোটো চালক উপস্থিত ছিলেন। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কোনও অবস্থাতেই জাতীয় সড়কের মূল রাস্তায় টোটো চালানো যাবে না। তাদের চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ‘সার্ভিস রোড’ বা পাশের দাগের ভিতরের অংশ ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া কানে ইয়ারফোন গুঁজে অসাবধানভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং মোবাইলে কথা বলার মতো বিপজ্জনক প্রবণতাগুলোর বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের এই সচেতনতামূলক উদ্যোগকে চালকদের একাংশ সাধুবাদ জানালেও, হাইওয়েতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ফলে তাদের রুজি-রোজগার নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া টোটো চালকদের প্রধান অভিযোগ, সব এলাকায় পর্যাপ্ত বা নিরবচ্ছিন্ন সার্ভিস রোড নেই। উদাহরণস্বরূপ, বেলডাঙ্গা বা বাগডিয়া বাজার থেকে শান্তিপুর স্টেশন কিংবা কৃষ্ণনগরের দিকে যাত্রী বা রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কিছু জায়গায় বাধ্য হয়েই তাদের মূল জাতীয় সড়কে উঠতে হয়। সার্ভিস রোডের সঠিক সংযোগ না থাকায় পুলিশি ধরপাকড়ের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের, যার ফলে সাধারণ যাত্রী পরিষেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    বৈঠকে যাত্রী বহনকারী টোটোর পাশাপাশি মালবাহী টোটো চালকদের সমস্যাও বিশেষভাবে উঠে আসে। চালকদের একাংশের দাবি, যাত্রী বহনকারী টোটোর ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকলেও, মালবাহী টোটোগুলো মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। হাইওয়েতে মালবাহী টোটো চলাচলও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে বহু পরিবারের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। টোটো চালকদের বক্তব্য, তারা প্রশাসনের সুরক্ষাবিধি মেনে চলতে সম্পূর্ণ রাজি, তবে তাদের জীবিকার কথা বিবেচনা করে অন্তত নির্দিষ্ট কিছু সীমানা (যেমন আসনগর বা আশতলা) পর্যন্ত বা বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।

    অন্যদিকে, ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তাই সবার আগে। আইন অমান্য করে হাইওয়েতে টোটো তুললে আগামীদিনে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও জরিমানা করা হবে। এই বৈঠকের পর শান্তিপুর থানা এলাকায় ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)