• হু-হু করে তলিয়ে যাচ্ছে মাটির চাঁই, নদীর ভয়াল রূপ দেখে রাতের ঘুম উড়েছে স্থানীয়দের
    News18 বাংলা | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • বর্ষার শুরুতেই ফুলিয়ার বয়রার ঘাটে তীব্র গঙ্গা ভাঙন আতঙ্কে ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের। আষাঢ়ের শুরুতেই অবিরাম বৃষ্টি, আর তার জেরেই নদীপাড়ের বাসিন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বর্ষার শুরুতেই নদী ভাঙনের গ্রাসে শান্তিপুর ব্লকের বেলগড়িয়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ফুলিয়ার বয়রার ঘাট এলাকা। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে গঙ্গার জলস্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে নদীপাড়ে। একের পর এক মাটির চাঁই তলিয়ে যাচ্ছে গঙ্গার গর্ভে।

    আর এই ভাঙনের জেরে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে গঙ্গার পাড়ে বসবাসকারী কয়েকশো মানুষের। যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাতে ঘুম উড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এদিকে এই ভাঙন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে পূর্বতন সরকারকে। বিজেপির অভিযোগ, গঙ্গা ভাঙন রোধের উদ্দেশ্যে এর আগে যে বিপুল পরিমাণ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের কাজে লাগেনি।

    সম্পূর্ণ অর্থ নয়ছয় ও দুর্নীতি করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। সঠিক কাজ না হওয়ার কারণেই আজ বর্ষার শুরুতেই সাধারণ মানুষকে এই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। বিজেপির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। শাসক দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগে যে কাজ হয়েছিল তা সম্পূর্ণ জেলা পরিষদের অর্থ অনুকূলে নিয়ম মেনেই করা হয়েছিল। ভাঙন নিয়ে রাজনীতি না করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

    একই সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের আশ্বাস, “যদি নতুন করে কোনও জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়, তবে আমরা বসে নেই। আমরা ইতিমধ্যেই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখছি। সংশ্লিষ্ট সেচ ও প্রশাসনিক দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন করে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করা হবে।” প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও, ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই দাবি, তড়িঘড়ি অস্থায়ী বালির বস্তা ফেলে নয়, বরং নদীপাড়ে পাকাপোক্ত বোল্ডার পিচিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করা হোক। না হলে এই বর্ষায় ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হতে হবে বহু পরিবারকে। তাই সকলে দ্রুত সমাধান চাইছেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)