বারুইপুরে নিহত নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্ত রাতেই হয়ে গেল। তার পরে কাঁটাপুকুর মর্গ থেকে নাবালিকার দেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার বারুইপুরের বাড়িতে।
শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পরে রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে ধর্ষণের মামলা এখনও রুজু হয়নি। পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক অভিযুক্তকে। অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাঁর সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল কিশোরীকে। নাবালিকার বাবাকে ফোন করে ওই ঘটনায় সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন। মঙ্গলবার কিশোরীর বাবাকে ভবানীভবনেও যেতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরিবার জানিয়েছে, কিশোরী শনিবার বিকেলে খাবার কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তার পর থেকে আর তার হদিস মেলেনি। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে চার জন মিলে ধর্ষণের পরে খুন করেছেন। তার পরে পুকুরে দেহ ফেলে দেওয়া হয়। সকালে দেহ উদ্ধার হওয়ার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দেহ ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়েরা। পথ অবরোধ করেন। সূর্যপুর স্টেশনেও অবরোধ হয়। তার জেরে নামখানা-শিয়ালদহ লাইনে ঘণ্টাখানেক বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। বিক্ষোভ চলাকালীন স্থানীয় এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এলাকার মানুষজনের একাংশের অভিযোগ, ওই যুবককে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। এই অবস্থায় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। মোতায়েন হয় বিশাল বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক জন পুলিশকর্মী আক্রান্ত হন বলেও অভিযোগ। শেষপর্যন্ত পুলিশ কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। আইজি কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুই (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) সেই সময়েই জানিয়েছিলেন, রবিবার রাতেই কিশোরীর দেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।